নাফিজসহ তিনজনকে হত্যার মামলায় অভিযোগ দাখিল, আসাদুজ্জামান খানসহ আসামি ২২
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গোলাম নাফিজসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মুর্তজার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত ২১ জানুয়ারি এ মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এ মামলায় মোট আসামি ২২ জন। তাঁদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শচীন মৌলিক গ্রেপ্তার আছেন। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক (জুয়েল), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইয়াত জামান (ফাহিম), তেজগাঁও থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনসহ ২১ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি। ট্রাইব্যুনাল পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ৪টা ২০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর ফার্মগেট ও আশপাশের এলাকায় গুলি চালিয়ে নিরস্ত্র আন্দোলনকারী গোলাম নাফিজ, তাহিদুল ইসলাম ও রমিজ উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া নিরস্ত্র আন্দোলনকারী মো. আবু বক্কর, মো. জাবেদ ইকবাল, নেসার উদ্দিন ও সাহাদাৎ হোসেন খানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা এবং গুরুতর জখম করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অপরাধ সংঘটনের সময় আসামি শচীন মৌলিক শটগান দিয়ে রমিজ উদ্দিনের চোখে গুলি করেন। এ কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই সময় আসামি হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান ও মোহাম্মদ মহসীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র–জনতার ওপর মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি করতে বাধ্য করেন। কেউ গুলি করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।