ভোক্তা অধিকার দিবসে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি
দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে পরিবহনের টিকিট সবখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রভাব বিস্তার করছে। নানা অজুহাতে তারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। মানহীন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের জিম্মি করা হচ্ছে। অথচ সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ভোক্তা বান্ধব বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিতে নতুন সরকারকে বিদ্যমান আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
আজ রোববার বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের ভোক্তা–অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করি, ভোক্তার আস্থা গড়ে তুলি’।
প্রতিবাদ সভায় ক্যাবের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এতে মানহীন পণ্য বাজারজাত ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে নজরদারি, পণ্যের মূল্য ও মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া অনলাইন ও ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রিত পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত) ও ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ এর বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। সাত দফা দাবিতে ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর যুগোপযোগী সংশোধনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
সভায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, জনস্বার্থে সরকারের প্রথম কাজ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এই কাজটি যদি সরকার না করতে পারে, তাহলে এই সরকার থাকার দরকার আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেন তিনি। রুহিন হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি নেই। আমদানিতে কিছু ঘাটতি আছে। আমদানিকৃত পণ্যের বেশি দাম ঠেকাতে ন্যায্য মূল্যের দোকান খুলতে হবে এবং রেশনিং করতে হবে। তিনি সরকারকে বিনামূল্যে নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, ভোক্তা–অধিকার দিবস একটি ‘খ’ শ্রেণীভুক্ত জাতীয় দিবস। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দুই বছর ধরে দিবসটি সরকারিভাবে পালন করা হয় না। সফিকুজ্জামান বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠনের পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বললেন রোজায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে না। এই বক্তব্য আর আজকের প্রেক্ষাপট যখন মেলে না, তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে এই সরকার কি সেই ব্যবসায়ীদের পকেটের সরকার কিনা?’ এসময় মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদের চুপ থাকার সমালোচনা করেন তিনি।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া বলেন, ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের তেল ব্যবসা জিম্মি হয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম সয়াবিন আর পাম তেলের দাম বাড়ানো হবে। অথচ বর্তমান দামে কিনতেই ভোক্তাদের কষ্ট হয়ে যায়। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণে পণ্যের দাম উঠানামা করে। এই বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
প্রতিবাদ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ক্যাবের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সামছ এ খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শওকত আলী খান, আজীবন সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রতিবাদ সভার আগে একটি র্যালি ক্যাবের সেগুনবাগিচা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পুরানা পল্টন মোড় ঘুরে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।