নিবন্ধিত ৩৯টি দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা করে। আর অন্য দলগুলোর জন্য সময় বরাদ্দ এক ঘণ্টা করে। ইসির এই আচরণকে বিমাতামসুলভ আখ্যা দিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। দলটির সভাপতি কাদের সিদ্দিকী সংলাপের শুরুতে বলেন, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। বড় দল ছোট দল এভাবে বিভাজন ভোটার ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ।

দলটির আরেক নেতা ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ভারত বড় দেশ বলে ভারতের সিইসিকে পাঁচ ঘণ্টা আর বাংলাদেশ ছোট দেশ বলে বাংলাদেশের সিইসিকে এক ঘণ্টা সময় দিলে কি হবে?

অবশ্য পরে দলটি দুই ঘণ্টাব্যাপী সংলাপ করে। ইভিএম, কুমিল্লার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিইসিকে নানা প্রশ্ন করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সংবিধানে ইসির যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, ইসি সেটা ব্যবহার করতে পারবে কি না, তা মেরুদণ্ডের ব্যাপার। ইভিএমে ভোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে তার জ্ঞান না থাকলেও তিনি ওই যন্ত্রের ৩০টি ত্রুটি বের করে দিতে পারবেন।

কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যের জবাবে দলগুলোর সহায়তা কামনা করে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা মেরুদণ্ড বাঁকা করে না, নতজানু হয়ে না, আমরা মেরুদণ্ড শক্ত রাখার চেষ্টা করব। কামিয়াব কতটুকু হব, সেটা আল্লাহপাক জানেন। আমরা সংলাপ শেষে আপনাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে সরকারের এবং সবার কাছে পৌঁছে দেব।’

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি যে আস্থা, সম্মান ও ভরসা, সেটা অক্ষুণ্ন রাখতে চান তাঁরা। নেতারা নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। ইসি তাদের সীমিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করবে। সরকারও সহায়তা করবে বলে ইসি বিশ্বাস করে।

সিইসি বলেন, ইভিএমে ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা তিনি দেননি। তখন কাদের সিদ্দিকী বলেন, একজন কমিশনার বলেছেন। এর জবাবে সিইসি বলেন, তাঁরা অনেক বৈঠক করেছিলেন। সেখানে ইভিএম–সংশ্লিষ্ট কেউ একজন পুরস্কারের বিষয়টি বলেছিলেন। সম্ভবত স্মৃতিভ্রম থেকে একজন কমিশনার ওই বক্তব্য দিয়েছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচনকালীন সরকার এবং প্রশাসন দল নিরপেক্ষ না হলে কোনোভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। আগের কমিশনগুলো সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রকিব কমিশন উপহার দিয়েছে ১৫৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বীহীন সংসদ সদস্য। নূরুল হুদা কমিশন নির্ঘুম নৈশভোটের প্রহসনের মাধ্যমে পুরো জাতি এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বকে হতাশ করেছে। এ দুটি কমিশনই বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

এর আগে দুপুরে সংলাপে অংশ নিয়ে ইভিএম নয়, ব্লক চেইন টেকনোলজি এবং ই-ভোটিং চালু করার প্রস্তাব করে জাকের পার্টি। দলটি বলেছে, ইভিএম পুরো নিশ্ছিদ্র বা নিরাপদ নয়। প্রযুক্তির সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটিয়ে এক প্রতীকের ভোট অন্য প্রতীকে গণনার আশঙ্কা রয়েছে।

পরে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএম নিয়ে বাইরে অনেক কথা চাউর আছে। কিন্তু ইসি এখন পর্যন্ত কারচুপির সুস্পষ্ট প্রমাণ পায়নি। ইভিএম হ্যাক করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যাতে অপপ্রয়োগ সম্ভব না হয়, সেটি নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন