সার্ক-বিমসটেক একে অপরের পরিপূরক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেনছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সার্ক ও বিমসটেক একে অপরের পরিপূরক। দুটি প্ল্যাটফর্মই পাশাপাশি কার্যকরভাবে চলতে পারে। সার্ক ও বিমসটেক, উভয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণের উন্নয়ন সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এসব কথা বলেন। ‘বিমসটেকের তিন দশক: যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে বিস।

শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি ভিশন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য তিনি সার্কের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ অনেকাংশে স্তিমিত হয়ে গেছে।

‘আমরা বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর অবশ্যই সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেব। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও রয়েছে। সার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণ, সরকার ও অর্থনীতি যাতে উপকৃত হয়, তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই,’ বলেন তিনি।

বিমসটেক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক অবশ্যই বহুপক্ষীয় যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বিমসটেকের অনেক সদস্যদেশ সার্কভুক্ত নয়। তাই সার্ক ও বিমসটেক একে অপরের পরিপূরক এবং দুটি প্ল্যাটফর্মই পাশাপাশি কার্যকরভাবে চলতে পারে। সার্ক ও বিমসটেক, উভয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণের উন্নয়ন সম্ভব।

বিমসটেকের বর্তমান সভাপতিত্ব বাংলাদেশের হাতে থাকার প্রেক্ষাপটে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে তথ্যভিত্তিক নীতি-আলোচনার সূচনা করা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসের গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবির। বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তৃতা দেন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রাশেদুজ্জামান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম বিমসটেকের প্রতি এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ, অভিঘাত সহনশীল ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কার্যকর বাস্তবায়ন, বাস্তবমুখী সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে অর্থনৈতিক একীভূতকরণ, যোগাযোগব্যবস্থা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সুনীল অর্থনীতি এবং জনগণকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথাও তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সংস্থার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সব সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে নারীর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের আন্তসংযোগ, জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার, সামুদ্রিক ও মানব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তদেশীয় অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সুবিধাকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিমসটেকের চলমান প্রকল্প ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।