আগের দামেই বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের গ্রাহকেরা

প্রতীকী ছবি

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার এক দিনের মাথায় আসছে পরিবর্তন। নিম্ন আয়ের মানুষকে বাড়তি দাম থেকে রেহাই দিতে আবাসিকের প্রথম শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম থাকবে না। আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন তাঁরা। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ ঘোষণা দিতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আবাসিকের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আজ বিইআরসির কাছে এ আবেদন করে তারা। বিইআরসি সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সব কোম্পানির পক্ষ হয়ে দুই শ্রেণির দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন। এখন আলাদা করে সব কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

গতকাল বুধবার পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এ কারণে বাড়তি দামের চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর। বাদ যাননি গ্রামের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা।

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকেই কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন

আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম দাম বাড়ানো হয়েছে লাইফলাইন শ্রেণিতে। এই শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তাঁরা বাসায় সাধারণত একটি ফ্যান ও একটি বা দুটি বাতি ব্যবহার করেন। তাঁদের প্রতি ইউনিটে দাম বেড়েছে ৬৯ পয়সা। পিডিবি এই শ্রেণির দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব কর। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়। এর ফলে নিম্ন আয়ের এসব গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত ৭৮১ কোটি টাকা আদায় হতে পারে।

নতুন দর অনুযায়ী, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বেশি। এ কারণে মাসে তাঁদের বিল বাড়বে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।

০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এই শ্রেণিতে বেড়েছে ৯২ পয়সা। মাসে বিল বাড়বে ৬৯ টাকা।

আরও পড়ুন

এই দুই শ্রেণির গ্রাহকেরা সাধারণত একাধিক বাতি ও একটি বা দুটি ফ্যান ব্যবহার করেন। মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির ব্যবহারকারী।

বিদ্যুতের দাম সংশোধন করা হলে আবাসিকে ‘লাইফলাইন’ শ্রেণির গ্রাহকের জন্য আগের দাম প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ও প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর দাম হবে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা।

আরও পড়ুন