হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৪ জন মারা গেছে। তারা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের। এ ছাড়া নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ও হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ জনের। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৭ জন। হাম শনাক্তের পর মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। সব মিলিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১০৮ জন।
হামে মৃত্যু ও আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ঢাকা বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫১৬ জনের। পাশাপাশি ৮১ হাজার ৬০ জনের হামের উপসর্গ দেখা গেছে। হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৩ হাজার ৩৫৫ জনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯৬ জন, চট্টগ্রামে ৯৫ জন ও ময়মনসিংহে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত হিসাবে বয়সভিত্তিক তথ্য থাকে না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনের। নতুন করে ১২৮ জনসহ দেশে মোট ২১ হাজার ৫২০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৫ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গ থাকা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন।