মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি

‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: ফের সিন্ডিকেট! অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়! বাড়তি ফি ও অর্থ পাচারের ফাঁদে অসহায় বিদেশগামী নাগরিক’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাঁদের স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় একটি চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধের দাবিও জানান তাঁরা।

আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: ফের সিন্ডিকেট! অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়! বাড়তি ফি ও অর্থ পাচারের ফাঁদে অসহায় বিদেশগামী নাগরিক’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এ আলোচনার আয়োজন করে।

আলোচনায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এ অর্থ না এলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা কী হতো, তা ভাবা দরকার। অথচ যাঁরা এ অর্থ পাঠান, তাঁদের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা নেই।

প্রবাসীদের জন্য দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে আরও জনবান্ধব হতে হবে বলে মনে করেন আবু আহমেদ। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ধনী পরিবারের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার খরচ মেটাতে দেশ থেকে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থ নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে আইন করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শ্রমিক পাঠানোর ব্যবসা করতে হলে তাঁদের ঘামের অর্থ থেকে কতটুকু নেওয়া ন্যায্য, তা বিবেচনা করতে হবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে কয়েক বছরেও ঋণের টাকা তুলতে পারেন না। শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে এ পরিস্থিতি থেকে তাঁদের মুক্ত করতে হবে, বলেন আসাদুজ্জামান রিপন।

সরকার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে লাইসেন্স দেয়। তাহলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি কাজের সুযোগ দেওয়া হবে না কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্টসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা না করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সক্ষম সব এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্র শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে না দেখে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে পুরো শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আলোচনায় এবি পার্টির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না দিয়ে যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া। সরকারনির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া বন্ধ করা এবং সব লেনদেন ব্যাংক বা অনুমোদিত ডিজিটাল মাধ্যমে করা।

এ ছাড়া দালাল, সাব-এজেন্ট ও ডিজিটাল মধ্যস্থতাকারীদের নিবন্ধন, নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনা। রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কতজন কর্মী পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে—এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনা। প্রতারণা কিংবা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে এজেন্সির বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল, কালো তালিকাভুক্তি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।