সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মেয়র (শেখ ফজলে নূর তাপস) যে কাজ করছেন, এটা হচ্ছে ইতিহাসের ওপর আক্রমণ বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। বাহাদুর শাহ পার্ক ‘মুনাফাখোরদের’ আগ্রাসনের শিকার হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরো দেশের জন্য এই পার্ক গুরুত্বপূর্ণ। এমন উন্নয়ন চাই না, যে উন্নয়নে কিছু মুনাফাখোরের হাতে টাকা জমতে থাকবে, সম্পদ জমতে থাকবে। আর দেশের বেশির ভাগ মানুষ অতিষ্ঠ হবে, অসুস্থ হবে। তাদের উন্মুক্ত জায়গা দখল হয়ে যাবে।’

বাহাদুর শাহ পার্ক রক্ষার দাবিতে স্থানীয় চারটি সংগঠনের জোট ‘ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদ’ আয়োজিত সুধী সমাবেশে শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, লেখকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই বাহাদুর শাহ পার্কে খাবারের দোকান বা ‘ফুড ভ্যান’ চালু করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইজারাদার নিয়োগ দিয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে। ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয় ডিএআর হোল্ডিং লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র বলছে, ইজারাদারকে পার্কের ভেতরে এমনভাবে দোকান তৈরি করতে বলা হয়েছিল, যাতে সেই দোকান যেকোনো সময়ে স্থানান্তর করা যায়। শর্তে আরও ছিল, ইজারাকৃত স্থান ‘যেখানে যে অবস্থায় আছে’ তা কোনোভাবে পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইজারাদার প্রথমেই সেখানে স্থায়ী স্থাপনা (দোকান ও গুদাম) তৈরি করেছে। এর পর গত সপ্তাহে দোকানের সামনের তিন দিকে বালু, ইট-সিমেন্ট দিয়ে দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০ ফুট এবং প্রস্থে ২৫ ফুট অংশ ঢালাই করা হয়েছে।

সামান্য অর্থের জন্য অথবা স্বজনপ্রীতির কারণে জনস্বার্থবিরোধী সর্বনাশা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে গতকালের সুধী সমাবেশ থেকে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েোছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের টাকার প্রয়োজন হলে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা চাঁদা তুলে ইজারার সমপরিমাণ টাকা তথা ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. মো. আবদুল মান্নান। সংগঠনের সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষক হারুনুর রশীদ, মোশাহিদা সুলতানা, এ কে রিয়াজ উদ্দিন, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তাফা, লেখক কৌশিক আহমদ, নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পূর্ব জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, সংগ্রাম পরিষদের নেতা কাজী খসরু, মকবুল হোসেন, আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বাবুরাম বোস, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মানজার চৌধুরী, গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতা আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাহাদুর শাহ পার্কের আশপাশে খাবারের অন্তত ৫০টি দোকান রয়েছে। এরপরও ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় খাবারের দোকান কেন? তাঁরা বলেন, যাঁরা পার্কের উন্মুক্ত জায়গা ইজারা দিয়েছেন, তাঁদের সন্তানেরা দেশে থাকেন না। তাই তাঁরা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে পার্কে দোকান বসিয়ে প্রাণ পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করতে দ্বিধা করেন না।