জেন্ডার সংবেদনশীলতার জন্য রাজনীতি ও গণমাধ্যমে জবাবদিহি প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতাবিষয়ক ম্যানুয়াল’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বুধবার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষেছবি: পিআইবির সৌজন্যে

রাজনীতি ও গণমাধ্যমে জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। যত বেশি স্বাধীন ও দক্ষ গণমাধ্যম থাকবে, তত বেশি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা সম্ভব হবে। আর এই প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়েই জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও গণমাধ্যমে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তার অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীলতা অর্জিত হবে।

বুধবার সকালে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা–বিষয়ক ম্যানুয়াল’–এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম ও সমাজে জেন্ডার সংবেদনশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মূল সমস্যাটি কেবল নারী-পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতিতেই এর শিকড় নিহিত। তিনি আরও বলেন, সামাজিকভাবে সমষ্টিগত মূল্যবোধ অর্জন করতে পারলে জেন্ডার সংবেদনশীলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অর্জিত হবে।

মন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। বহুবার নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু হাতে গোনা দু-একটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ফলে জবাবদিহির জায়গাটা দুর্বল থেকে গেছে। এই ঘাটতির প্রভাব গণমাধ্যমেও পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসুস্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমও সংক্রমিত হয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

পিআইবির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা–বিষয়ক ম্যানুয়াল’–এর মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জানান, সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবেদনশীল ভাষার প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরতে পিআইবি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে ২০২৫ সাল থেকে এই ম্যানুয়াল তৈরির কাজ শুরু করে। এ জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বগুড়া, খুলনা ও কক্সবাজারে কর্মশালা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০০ সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে নারী ছিলেন ৪০ জন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এই ‘প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা’ বা ‘ট্রেনিং ম্যানুয়াল’টি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, এই ম্যানুয়ালটিতে নারীর প্রতি সংবেদনশীলতার বিষটিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে অনেক আইন, তবে শুধু আইন দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন করা যায় না। জেন্ডার–সমতার বিষয়টি সবাইকে মনে নিতে এবং মেনে নিতে হবে। সমাজে নারী ও পুরুষের সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

অপর বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী বলেন, ‘জেন্ডার বিষয়টি শুধু নারীদের বিষয় নয়। সমাজের যেকোনো ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক অবস্থার সব বাসিন্দার বেঁচে থাকার জন্য সমান অধিকার রয়েছে। এই অর্থে জেন্ডার–সমতা মানবাধিকারের বিষয়। আমাদের দেশে জেন্ডার–সমতা নিয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের জন্য এ বিষয়ে ম্যানুয়াল তৈরি করার কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে ম্যানুয়ালের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শারমিন। এতে ১০টি অধ্যায় রয়েছে। এতে জেন্ডার–সমতার চ্যালেঞ্জ, শব্দ ও ভাষার প্রয়োগ, কনটেন্ট তৈরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে জেন্ডার সংবেদনশীলতার বিষয় ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এদেশীয় পরিচালক কবিতা বোস, ম্যানুয়াল পর্যালোচনা করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক নিশাত সুলতানা, আলোচনা করেন গণমাধ্যম–বিশেষজ্ঞ নাজিয়া আফরীন প্রমুখ।