আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার আসামির আপিল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিসহ দণ্ডিত চার আসামি আপিল করেছেন। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আজ বৃহস্পতিবার এ আপিল দায়ের করা হয়।
আপিল করা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। অপর দুই আপিলকারীর পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। তাঁরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
এর আগে আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ৯ এপ্রিল রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত চার আসামির পক্ষে আজ আপিল দায়ের করেছেন বলে জানান তাঁদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায় এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাফিউল হাসান রাসেল ও ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ আপিল করেছেন। আপিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় বাতিল ও খালাস চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।