নতুন করে ধোঁকায় পড়ে দেশটাকে ধ্বংস করতে চাই না: চরমোনাই পীর

গাজীপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জি এম রুহুল আমীনের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজীপুরের কোনাবাড়ি কলেজ মাঠেছবি: প্রথম আলো

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ৫৪ বছর ধরে মানুষ যে নীতি–আদর্শে চলছিল, সেই নীতি–আদর্শের কারণে এ দেশের মানুষ যা চেয়েছিল, তা পায়নি। মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিলেন, পঙ্গু হয়েছিলেন। তাঁদের মূল তিনটি স্লোগান ছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাস্তবে যাঁরা দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তাঁরা এগুলো একটাও বাস্তবায়ন করেননি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজীপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা জি এম রুহুল আমিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করীম এ কথা বলেন। গাজীপুরে কোনাবাড়ী কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমরা কি বারবার দুর্নীতির মধ্যেই নিয়োজিত থাকব, নাকি পরিত্রাণ দরকার। এ জন্য দুর্নীতি থেকে বাঁচতে একটাই ইসলামি দল, সেটি হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যার প্রতীক হলো হাতপাখা। আমরা বহু নির্বাচনে বহু লোকের উন্নয়নের ফুলঝুরি শুনেছি, নতুন করে আর ধোঁকায় পড়ে দেশটাকে ধ্বংস করতে চাই না। এ জন্য দেশের কল্যাণের জন্য, মানবতার কল্যাণের জন্য, দেশকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে কাজ করা শুরু করেছেন।’

অতীতে দেশ পরিচালনা করা দলগুলোর সমালোচনা করে চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘একবার–দুবার নয়, তামাম দুনিয়ার মধ্যে চোরের দিক থেকে পাঁচবার দুর্নীতিতে ফার্স্ট বানিয়ে ছিল। আমরা এদের দেশ পরিচালনায় দেখেছি হাজার হাজার মা-বোনের কোল খালি হতে। রাস্তায় নামার পর মানুষ গুম হয়ে যেত, ঘরে গেলে খুন হয়ে যেত। আমাদের দেশের টাকাগুলো বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করেছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ গড়ার একটি সুন্দর সময় এসেছে উল্লেখ করে রেজাউল করীম বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে আফসোস করতে হবে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুটি নির্বাচনী জোটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই যে দুটি জোটের কথা আমি বললাম, এই জোটের লোকেরা কি বলেছ ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব? বিএনপি আগে–পরে যা বলে, এখনো তাই বলছে। আর বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বে যে জোট হয়েছে, তারা পরিষ্কার করে বলেছে শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে অন্যায়কে দূর করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা অবাস্তব।’