১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ সালাম ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। একপর্যায়ে দৌড় দিলে তাঁকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সগিরা মোর্শেদ মারা যান। সেদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত নারীর স্বামী সালাম চৌধুরী।

ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১০ নম্বর সাক্ষী হলেন সামিয়া। গত জুনে সামিয়ার আংশিক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারিক আদালত। তবে ঘটনার সময় সামিয়ার বয়স পাঁচ বছর উল্লেখ করে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ না করার আবেদন করে আসামিপক্ষ। বিচারিক আদালত গত ২৩ জুন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে গত ৪ জুলাই হাইকোর্টে আবেদন করেন দুই আসামি। তাঁরা হলেন হাসান আলী (সগিরার ভাশুর) ও তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদ শাহিন। আবেদনে ২৩ জুনের আদেশ প্রশ্নে রুল ও মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

এ মামলায় ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগপত্রে বলা হয়, মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। পরিকল্পনামাফিক তা বাস্তবায়নের জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দেওয়া হয়।

আজ আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ফজলুল হক এবং কে এম মাসুদ রুমি।  

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি প্রথম আলোকে বলেন, ওই মামলায় সগিরা মোর্শেদের মেয়ে সামিয়া সারওয়াত চৌধুরীর সাক্ষ্য গ্রহণে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে অভিমত দিয়ে হাইকোর্ট দুই আসামির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে নিম্ন আদালতে মামলাটির কার্যক্রম চলতে আইনি বাধা নেই।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্ট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

এ হত্যার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দুজনের কথা বললেও মিন্টু ওরফে মন্টু নামের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নেওয়া হয় সাতজনের সাক্ষ্য। বাদীপক্ষের সাক্ষ্যে আসামি মন্টু ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজার নাম আসে। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মারুফ রেজার নাম আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২৩ মে বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। থমকে যায় মামলার কার্যক্রম।

বিষয়টি নজরে এলে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২৬ জুন হাইকোর্ট মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশে এর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই চারজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। একই বছরের ২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।