মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী খসড়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে মনে করছে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সংশোধনীর খসড়া তৈরির আগে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তিবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অর্থবহ কোনো পরামর্শ করা হয়নি।

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

বিবৃতিতে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট বলেছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আরও বাড়তে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচিত কাঠামো সংকুচিত করার বদলে তা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এতে আইনটির অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, সংশোধনীতে মানহানির সংজ্ঞা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ ও ২৬ ধারায় ‘অবমাননা’, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-সংক্রান্ত নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। এসব শব্দের সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে কোনো বক্তব্য মানহানিকর, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা গুজব কি না, তা নির্ধারণে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট বলেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থে করা সাংবাদিকতা সুরক্ষার জন্য খসড়ায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। কোনো বক্তব্যের কারণে বাস্তব ক্ষতি হয়েছে—এমন প্রমাণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি। একই সঙ্গে এসব অপরাধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তির সুযোগ থাকায় বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে আইনটি বেছে বেছে প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সময়ও খুব সীমিত জনসম্পৃক্ততা ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বর্তমান খসড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। তারা বলেছে, শুধু একটি খসড়া প্রকাশ করাই জনপরামর্শের জন্য যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং তাঁদের মতামত ও সুপারিশ আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আইনে বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীন বাংলাদেশের দায়বদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে।