আজ সকালে ছয় শিক্ষার্থী অবস্থান নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যান। তাঁরা হলেন—যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কাজী আশিকুর রহমান, একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হাসান মাহবুব, মোহাম্মদ মাসুদ, মোহাম্মদ মাহিন, প্রথম বর্ষের এম এ শামীম ও রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ হাজারী।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী কাজী আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা ছয়জন অবস্থান নেওয়ার জন্য স্টেশনে আসেন। কিন্তু স্টেশনের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। পরে তাঁরা স্টেশনমাস্টার রতন কুমার চৌধুরীর কাছে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ জানতে চান। রতন কুমার চৌধুরী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিষেধ আছে। তিনি শিক্ষার্থীদের স্টেশনের বাইরে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে জানতে রতন কুমার চৌধুরীকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পরে খুদে বার্তা দিয়ে জানান, তিনি একটি সভায় আছেন।

গত মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন মহিউদ্দিন। রেলসেবা উন্নত করতে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। ১০ জুলাই ঈদের দিনও তিনি অবস্থানে ছিলেন। অবস্থানের তৃতীয় দিন ৯ জুলাই পুলিশের সদস্যরা তাঁকে বাধা দেন। তখন তিনি গণস্বাক্ষর বন্ধ রেখে ২৪ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

১১ জুলাই মহিউদ্দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ মাহিন রুবেল ও কাজী আশিকুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের ছাত্রী জয়া মণ্ডল। গত রোববার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে অবস্থান নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাঁরা অবস্থানে ছিলেন। এরপর গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অবস্থান নেন ৯ শিক্ষার্থী।

ছয় দফা দাবি

শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি হলো—টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সহজ ডটকমের যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা ও হয়রানির ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া; যথোপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকিটের কালোবাজারি প্রতিরোধ, অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করা ও অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; যাত্রীর চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া; ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক, তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি ও শক্তিশালী তথ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেলসেবার মান বাড়ানো; ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি, বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন