বাংলাদেশের সামগ্রিক টিভি বাজার খুবই সম্ভাবনাময়। ভোক্তা–বাজারে দ্রুত বর্ধনশীল ইলেকট্রনিক পণ্যগুলোর মধ্যে টেলিভিশন অন্যতম। উন্নতমানের টেকনোলজির ব্যবহার এবং দামের সহজলভ্যতার কারণেই মূলত দেশে টিভি বাজার আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত হয়েছে। টিভি ইন্ডাস্ট্রিগুলোও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই বাজারে এনেছে ফোরকে স্মার্ট টিভি এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট টিভির মতো দারুণ সব চমক। বাজারে বর্তমানে স্মার্ট টিভির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি, পণ্যের মূল্য হ্রাস এবং সম্প্রচার শিল্পের ডিজিটাল রূপান্তর। ২০১৬ সালে এনএমএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র দুই দশকে টিভির দর্শকসংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নিলসেন ২০১৭–এর সমীক্ষায় প্রকাশ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের অন্যান্য মিডিয়ার মধ্যে টিভির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।

এখন বেশির ভাগ গ্রাহক এলইডি/এইচডি টিভি ছেড়ে ইউএইচডি টিভি বেছে নিচ্ছেন। এই চাহিদার কারণে বর্তমানে কিউএলইডি এবং নিও কিউএলইডি টিভি বেশি তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সাইজের দিক থেকে ভালো অভিজ্ঞতার জন্য বাংলাদেশের গ্রাহকদের কাছে বড় আকারের টিভিগুলোর চাহিদা বেশি দেখা যায়। যেহেতু এখনকার টিভিগুলো ইচ্ছেমতো পারসোনালাইজ করা যায় (যেমন নিয়মিত কেবল চ্যানেল, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম/ওটিটি, গেমিং করা ইত্যাদি), তাই অনেক পরিবারেই এখন একাধিক টিভির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। ফলে সম্প্রসারণ হচ্ছে টিভি বাজারও।

দেশের দর্শকদের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা দেওয়ার কারণে বাজারে স্যামসাংয়ের জনপ্রিয়তা ও অবস্থান অত্যন্ত গৌরবের। স্ক্রিন প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় স্যামসাং ইলেকট্রনিকস কোম্পানি লিমিটেড সাধারণত ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং কম্পিউটারের একসেসরিজ উৎপাদন ও বিক্রয় করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৮ সালের ১ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যার সদর দপ্তর দক্ষিণ কোরিয়ার সুওনে।

ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে ১৯৬৯ সালে স্যামসাং প্রথম ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করে। তাদের প্রথম পণ্য ছিল সাদা-কালো টেলিভিশন। ১৯৭০–এর দশকে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে হোম ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানি শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ৮০-এর দশকের প্রথম দিকে প্রযুক্তি ব্যবসায় নিজেদের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রত্যক্ষ করেছিল স্যামসাং। এরপর বাজারে আসার পর থেকেই স্যামসাং টিভি স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে বিশ্বের প্রথম এজ-টাইপ এলইডি টিভি ছাড়াও ২০১০ সালে অ্যাপ্লিকেশনসহ বিশ্বের প্রথম স্মার্ট টিভি স্টোর, ২০১৪ সালে বিশ্বের প্রথম কার্ভড ডিজাইনের ইউএইচডি টিভি, ২০১৭ সালে বিশ্বের ১০০ শতাংশ কালার ভলিউম কিউএলইডি টিভি, ২০১৭ সালে বিশ্বের প্রথম কিউএলইডি এইটকে টিভি এবং ২০২১-২২ সালে বিশ্বের প্রথম নিও কিউএলইডি টিভি এইটকে টিভি চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশি ভোক্তাদের ব্রেকথ্রু স্ক্রিনিং প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় স্যামসাং। আর এভাবেই বৃহৎ মার্কেট শেয়ারের সঙ্গে কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে চলেছে স্যামসাং।

গ্রাহকের ব্যক্তিগত পছন্দ ও অভিরুচিকে মাথায় রেখে ঘরের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় স্যামসাং টিভি। শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারই নয়, এটি কীভাবে মানুষের জীবনের সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়, কীভাবে মানুষ টিভির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে টিভিটি গ্রাহকের জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই হবে কি না—ইত্যাদি নিয়ে বছরের পর বছর গবেষণা করে অগ্রগতি অর্জন করেছে স্যামসাং। গুণগত মানের জন্য স্যামসাং গ্রাহকদের অবিশ্বাস্য ‘ভিউয়ারশিপ এক্সপেরিয়েন্স’ নিশ্চিত করে। এমনকি লাইভ শো এবং গেমগুলোর ক্ষেত্রেও ভোক্তা নিজের বাড়িতে বসেই লাইভের মতোই ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

টানা ১৬ বছর ধরে টিভি বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্যামসাং। বৈচিত্র্যময় জীবনধারার সঙ্গে মিল রাখতে স্যামসাং প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন করে চলেছে। ২০২২ সালে স্যামসাং নিও কিউএলইডি এইটকে টিভি বাজারে আনে, যার ৩৩ মিলিয়ন পিক্সেল দর্শকদেরকে দেয় অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই অনন্য বৈশিষ্ট্য টিভিটিকে গ্রাহকদের কাছে সেরার চেয়েও সেরা করে তুলেছে। এ ছাড়া এর ৯৯:১ স্ক্রিন টু বডি রেশিও এবং ইনফিনিটি স্ক্রিন ছবিকে করে তোলে আরও জীবন্ত। ইউএইচডি টিভির এয়ার স্লিম ডিজাইনটি স্মার্ট এবং শৈল্পিকভাবে পেরিফেরিয়ালগুলোকে লুকিয়ে রাখে। ডলবি অ্যাটমস সাউন্ড সিস্টেম, সোলারসেল রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম, মাল্টি-ভিউসহ অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিও কিউএলইডি এইটকে টিভিকে যেকোনো গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। স্যামসাংয়ে কিউএলইডি ফোরকে টিভিগুলো ৫৫, ৬৫ এবং ৭৫ ইঞ্চি সাইজের পাওয়া যায়। বিস্ময়কর কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কিউএলইডি ফোরকে টিভিগুলোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা দর্শকদের একটি সুন্দর দর্শনীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। স্যামসাং ক্রিস্টাল ইউএইচডি টিভি ১ বিলিয়ন রঙের প্রজেক্ট করে। ক্রিস্টাল প্রসেসর কিউএলইডি ফোরকে টিভিটিকে একটি স্মুদ এবং ফাস্ট ইন্টারফেস দেয়।

বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের আরেকটি সাম্প্রতিক পরিচিতি হলো লাইফস্টাইল টিভি সিরিজ। এই সিরিজের দুটি প্রোডাক্ট ফ্যামিলি—দ্য ফ্রেম এবং সেরিফ টিভি। প্রযুক্তি বা দর্শকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কোনো আপস ছাড়াই ‘দ্য ফ্রেম টিভি’র ফ্রেম এবং লুক গ্রাহকদের নান্দনিক জীবনধারার মানানসই। সেরিফ টিভির ৩৬০–এর এনএফসি বৈশিষ্ট্য সংগীতপ্রেমী গ্রাহকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। স্যামসাং টিভিতে ফুটবল গেম, সিনেমা দেখা কিংবা অনুষ্ঠান বা খবর দেখার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। টেকনোলজি, সাইজ এবং ডিজাইনের দিক থেকে স্যামসাং ব্র্যান্ড সব সময় গ্রাহকদের অফার করে সেরা টিভি মডেলগুলো।

স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক সাফল্যের মধ্যে রয়েছে নিও কিউএলইডি এইটকে টিভি এবং লাইফস্টাইল সিরিজ। স্যামসাংয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম টাইজেনের কারণে বছরের পর বছর ব্যবহারের পরও টিভির গতিশীলতা ঠিক থাকে এবং টিভি থাকে শতভাগ ভাইরাসমুক্ত। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আউটলেট কভারেজ রয়েছে স্যামসাংয়ের। স্যামসাং এর গ্রাহকসেবা নম্বর হলো ০৮০০০৩০০৩০০, যেখানে ফোন করে গ্রাহকেরা ২৪*৭ টোল ফ্রি সেবা নিতে পারেন।