টানা ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন টেকনাফ, মানুষের ভোগান্তি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ৩০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে প্রথমে উপজেলার সদর ইউনিয়নের একাংশ ও ছয়টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর একে একে অন্য এলাকাগুলোও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে এমনটা হয়েছে বলে দাবি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয়। তাঁরা বলছে, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইটি বেশ পুরোনো। লাইনের কোথায় সমস্যা হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
টেকনাফের ছয়টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এভাবে টানা বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার ৬৩ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। টেকনাফ নতুন পল্লানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। গতকাল সকাল ৭টায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেছে, আজ দুপুর পর্যন্ত আসেনি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’
টেকনাফ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বাহাদুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন ঘন ঘন লোডশেডিং এমনিতেই অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ব্যবহারের পানি পর্যন্ত নাই। অধিকাংশ মানুষের রেফ্রিজারেটরে মাছ-মাংস নষ্ট হতে শুরু হয়েছে।’
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় অর্ধশত বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেন, হঠাৎ করে গতকাল সকাল সাতটার দিকে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝড়বৃষ্টি ও দমকা হওয়া শুরু হয় বেলা ১১টার পর থেকে। বিদ্যুৎ বিভাগ এর চার ঘণ্টা আগেই টেকনাফ পৌরসভা, সদর, সাবরাং, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
টেকনাফ শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসা একটি উপজেলা। উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল সকাল ৭টার পর থেকে আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই, বারবার ফোন দিলেও কর্তৃপক্ষ ধরে না। বিদ্যুতের বিষয়ে কোনো তথ্যও জানতে পারছি না। লোকজনকেও কিছু বলতে পারি না। এখানে সামান্য বৃষ্টি ও আকাশে মেঘ হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং কেটে গেছে গতকাল রাত নয়টার দিকে অথচ বিদ্যুতের কোনো দেখা নেই। মুঠোফোনে চার্জ নেই তাই বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ক্ষয়ক্ষতির তেমন খবর নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।’
সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য শফিক মিয়া বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার মতো তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে কী কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে গ্রাহক হয়রানি করা হচ্ছে।’
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে এখানে বিদ্যুৎ বিভাগ মনগড়াভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিচ্ছে। হঠাৎ করে গতকাল সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারেননি। বর্তমানে বাসা বাড়িতে পানি না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পরিবারের লোকজনকে।’
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি টেকনাফ জোনাল কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবুল কালাম আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে এক দিকে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি আছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি আমরা। কাজ চলছে।’