চরমপন্থীদের হামলা এএসআই গুলিবিদ্ধ

>

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে গতকাল দুপুরে এএসআই নান্নু মিয়ার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

নান্নু মিয়া
নান্নু মিয়া

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে টহল পুলিশের ওপর হামলা করেছে চরমপন্থীরা। গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় শেরপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম নান্নু মিয়া (৪২)। তাঁকে রাতেই উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাত তিনটার দিকে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়া থেকে ঢাকায় শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মুঠোফোনে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জানতে চাইলে শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুম্মান হোসেন বলেন, তিনি এখন নান্নু মিয়ার পাশেই আছেন। নান্নুর ডান হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। হাঁটুর হাড় ভেঙে গেছে। বগুড়া থেকে গতকাল সকাল আটটায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে দুপুরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকায় পুলিশের নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দল ছিল। নান্নু মিয়াসহ দুই পুলিশ সদস্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টহল দিচ্ছিলেন। তাঁদের অটোরিকশাটি ভবানীপুর মন্দির সড়ক দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিল। তখন একদল চরমপন্থী বাজারে বিভিন্ন পোস্টারিং করে ফিরছিল। এ সময় নান্নু তাঁদের চ্যালেঞ্জ করলে চরমপন্থীরা তাঁর ডান হাঁটুতে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম আরও বলেন, চরমপন্থীদের সাঁটানো পোস্টারে লেখা ছিল, ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে ৬১৪ জন সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন-মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদ জিন্দাবাদ’।

ওই রাতে টহলের দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল আতাউর রহমান। তিনি বলেন, চরমপন্থীদের পাবনা ও রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে শুনেছেন। তারা সংখ্যায় ছিল অন্তত ২০-২৫ জন। ওই সময় চরমপন্থীরা চারটি গুলি ছোড়ে। তিনিও তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে তিনটি গুলি ছোড়েন। তাঁর গুলিতে চরমপন্থী দলের কেউ আহত হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। চরমপন্থীরা চলে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে তাদের ব্যবহার করা থ্রি নট থ্রি রাইফেলের একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অটোরিকশার চালক সোনাউল্লাহ প্রামাণিক বলেন, চরমপন্থীরা পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির স্লোগান দিয়ে পাশে রায়গঞ্জ উপজেলার দিকে হেঁটে চলে যায়।

ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জি এম মোস্তফা কামাল বলেন, চরমপন্থীরা ২০১২ সালের শীতকালে এক রাতে ভবানীপুর বাজার এলাকায় একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল। সে সময়ও বাজার এলাকায় পোস্টারিংসহ ফাঁকা গুলি ছুড়েছিল।

ভবানীপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে দোতলায় তাঁর বাড়ি। গুলির শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। পরে থানা থেকে পুলিশ এলে তিনি নিচে নেমে আসেন। তিনি বলেন, বাজারে চারজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। চরমপন্থীরা বাজারে এসে নৈশপহরীদের মুঠোফোন কেড়ে নেয়।

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অন্তত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।