কুমিল্লায় ১২০০ ফুট অবৈধ গ্যাসলাইন উচ্ছেদ করল বিজিডিসিএল

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) ১ হাজার ২০০ ফুট অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন উচ্ছেদ করেছে। আজ সোমবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আমতলী থেকে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়ন ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এই উচ্ছেদ অভিযান চলে।

বিজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিজাম শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তিন বছর ধরে একটি অসাধু চক্র এই গ্যাসলাইন টেনেছে। এসব লাইন উচ্ছেদ হওয়ার কারণে কুমিল্লা শহরতলির পশ্চিম এলাকার বৈধ গ্রাহকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাবেন।

বিজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে নয়টায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকা থেকে বুড়িচং উপজেলার ২০ কিলোমিটার এলাকায় থাকা অবৈধ গ্যাস পাইপলাইনের ১ হাজার ২০০ ফুট উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে আমতলী এলাকার মাস্টার অ্যান্ড সন্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কাছে মূল পাইপলাইন থেকে নেওয়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই সময় বিজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ভিজিল্যান্স) মো. রবিউল হক, বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী হাকিম তাওহীদা খাতুনসহ পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে কুমিল্লা নগরের পশ্চিম বাগিচাগাঁও, নতুন চৌধুরীপাড়া, ধর্মপুর, শাসনগাছা ও রেসকোর্স এলাকায় কিছু সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে।

বিজিডিসিএলের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের অন্তত ৩০০ অবৈধ গ্রাহক রয়েছেন। ২০১৪-১৫ সালে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর দক্ষিণপাড়ে মাস্টার অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি পাইপলাইন থেকে বুড়িচংয়ে গ্যাস ঢোকানো হয়। বিজিডিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সেখানকার ছয়জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ওই কাজ করেন। ২০১৬ সালে ওই ছয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট বন্ধসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা নেন তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল ইসলাম খান। একই সঙ্গে তিনি ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করেন। পরে ওই ঠিকাদার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সেটি স্থগিত করেন। তিনি জানান, অবৈধ লাইনের গ্রাহকদের জন্য বৈধ গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস পেতেন না। দিনের অধিকাংশ সময় বৈধ গ্রাহকদের চুলোয় মিটমিট করে গ্যাস জ্বলত।


বিজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিজাম শরিফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ লাইন উচ্ছেদ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৩ মের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম, মুরাদনগর ও চান্দিনা এলাকার অবৈধ লাইন উচ্ছেদ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।