এবার বরাদ্দ ৬৮ কোটি টাকা

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে এবার প্রথম পর্যায়ে ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই প্রকল্প নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের কাজ শেষ করে ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করতে হবে। হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় প্রকল্প নির্ধারণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব কাজ শুরু হবে।

তবে হাওরে কৃষকদের পক্ষে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা বলছেন, প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রকল্প না হয়। প্রতিটি পিআইসি গঠনে গণশুনানি করতে হবে। এটি না হওয়ায় পিআইসিতে দুর্নীতিবাজেরা ঢুকে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাওর এলাকায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আছে। এর মধ্যে গত বছর জেলার ৩৬টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৫৭২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার হয়। এতে ব্যয় হয় ৮০ কোটি টাকা। এবার প্রথম পর্যায়ে ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দ আরও বাড়তে পারে। প্রতিটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারবে। কাজের শেষ সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি।

হাওরে একসময় ঠিকাদারদের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হতো। পরে বাঁধের কাজে পিআইসির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের বন্যায় হাওরে ফসলহানির পর বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে ঠিকাদার ও পিআইসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও হয়। পরে বাঁধ নির্মাণে নতুন নীতিমালা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সরাসরি যুক্ত করা হয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে।



পাউবোর জামালগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস জানিয়েছে, তাঁর উপজেলায় কাজের পরিমাপকারী দল কয়েক দিন ধরে অবস্থান করছেন। কিন্তু হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় কাজ শুরু করতে পারছেন না। তাহিরপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেছেন, তাঁরা আগামী রোববার থেকে হাওরে কাজ শুরু করবেন।

সুনামগঞ্জে হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেছেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী, রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লাভবান হওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিয়ে থাকেন। পাশাপাশি দেখা গেছে, আগে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মামলার আসামিও পিআইসির সভাপতি-সম্পাদক হয়েছেন। এবার যেন এটা কোনোভাবেই না হয়।

‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দালনের’ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাঁধের কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয়ভাবে গণশুনানি করে প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ কম থাকবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল আলম জানান, এবার সুনামগঞ্জে ২ লাখ ১৯ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টরে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং হাওর বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, ‘আমরা জেলা কমিটির সভা করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যথাসময়ে কাজ শুরু করার। এ জন্য অন্যান্য কাজ এ মাসের মধ্যেই শেষ করতে হবে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।’