কেএসআরএম মার্কেট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার মহাব্যবস্থাপক কর্নেল (অব.) মো. আশফাকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, 'তারুণ্যের উচ্ছ্বল মনন আমাদের ভবিষ্যৎ নাগরিক নির্মাণের মূলশক্তি। এই সুন্দর মননগুলোকে চিনতে পারলে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন আর আকাঙ্খা নির্মাণে তা সহায়ক শক্তি হিসেবেই কাজ করবে।'

আইএবির সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ফারহানা শারমীন ইমু বলেন, 'বাংলাদেশে বতর্মানে যে মেগাস্ট্রাকচারগুলো উদ্বোধন করা হচ্ছে কিংবা যেগুলো নির্মাণাধীন রয়েছে সেগুলোর প্রেক্ষিতেও একই ভাবনা কাজ করে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ও জিডিপিতে অবদান রাখার মতো প্রতিটি মেগা প্রকল্পের অংশীদার হতে পারায় আমরা গর্বিত। আমি নিশ্চিত, তরুণ প্রজন্মের মনে লালিত হচ্ছে যে আগামী, তা প্রত্যেকের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে।'

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি রাশেদ চৌধুরী, সূচনা বক্তব্য দেন আইএবির সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও আইএবির সম্পাদক (শিক্ষা) আরেফিন ইব্রাহিম। এবার প্রথম অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তাওরিম রাহুল সিংহ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মাহির অরিত্র এবং তৃতীয় হয়েছেন ইউনির্ভাসিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) মো. নাফিউ। বিজয়ীদের হাতে যথাক্রমে ১ লাখ, ৭৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকার চেক এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। কেএসআরএম ও আইএবি যৌথ উদ্যোগে সেরা গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রদর্শনের মাধ্যমে ভবিষ্যত-স্থপতিদের এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেএসআরএমের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (ব্র্যান্ড) শাহেদ পারভেজ, উপ-ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান রিয়াদ, সিনিয়র অফিসার মিজান উল হক, মিথুন বড়ুয়া প্রমুখ। অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আয়োজনের সমন্বয়ক ছিলেন স্থপতি সায়মুম কবীর।

প্রসঙ্গত, দেশের অন্যতম ইস্পাত প্রস্তুতকারী শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম প্রতিবছর তিন উদীয়মান, মেধাবী ও নবীন ভবিষ্যত-স্থপতিকে অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। এ উপলক্ষে কেএসআরএম ও আইএবির মধ্যে ১০ বছরের একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয় ২০১৯ সালে। সেই চুক্তির আওতায় আইএবি-স্বীকৃত দেশের স্বনামধন্য ১১টি আর্কিটেকচার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতক পর্যায়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এ অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা তিন প্রতিযোগী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এবার ২৮ জন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর প্রজেক্টের মধ্য থেকে সেরা তিনজনকে বাছাই করে পাঁচজন স্থপতির জুরি বোর্ড। গত ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে আইএবি সেন্টারে প্রজেক্টগুলোর প্রদর্শনী হয়। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ ১৭ নভেম্বরে।