স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ঢাকা মহানগরে ২১ ও কক্সবাজারে ১৮ জন মারা গেছে। এর বাইরে চট্টগ্রামে ৩ ও বরিশালে ৪ জন মারা গেছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ১১৫ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০০ জন এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে।

১৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সারা দেশে মশাবাহিত রোগপ্রতিরোধে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ২০১৯ সালে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ তৎপর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার বর্ষাকালীন মশা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৩ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা বা শূককীট পাওয়া গেছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে পাওয়া গেছে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়িতে।

জরিপে মশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দক্ষিণ সিটির কমলাপুর, মতিঝিল, নবাবপুর, বংশাল, ওয়ারী ও নারিন্দা এলাকায়। আর উত্তর সিটির সেনপাড়া পর্বতা, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মহাখালী, বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও আগারগাঁওয়ে।

সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাস মূল মৌসুম। চলতি বছর জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগস্ট মাসে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার ব্যক্তি। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ২৫৭ জন।

তবে হাসপাতালে যত রোগী ভর্তি হচ্ছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮ জন। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, এ জেলায় ১৩ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

কীটনাশক দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মশার লার্ভা নষ্ট করতে পারলেই ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে যায়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গুর মূল মৌসুমের চার মাস জোরালো পদক্ষেপ নিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন