‘খুব খারাপ সময়ের মধ্যে আছি’ মন্তব্য করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল, পাকিস্তানও উপনিবেশ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশকে উপনিবেশে পরিণত করেছে ধনিক শ্রেণি। ঔপনিবেশিক শাসকেরা যেমন সম্পদ পাচার করত, এখনো এই ধনিক শ্রেণি বিদেশে সম্পদ পাচার করছে। কাজেই লোক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাটি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে উঠতেই ভেঙে পড়ে। ওই ভেঙে পড়া রাষ্ট্রের পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি, আইনকানুন আমরা বাতিল করতে পারিনি। ওইগুলো নিয়েই নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো। ফলে বাংলাদেশ হলো, আয়তনে ও শাসকদের চেহারা অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্র হলো, কিন্তু রাষ্ট্রের মূল চরিত্রে পরিবর্তন হলো না।’

আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘এক ব্যক্তি এক দল—এটি হলো আমাদের দেশের রাজনীতি। গণতন্ত্রে এর খেসারত তো দিতেই হবে এবং আমরা তা–ই দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, আগামী ৫০ বছরে দেশের ভালো করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার এবং সুষ্ঠু আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি জোর দিতে হবে।

শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় নজর দিতে হবে, আমরা এটিকে ধ্বংস করে দিয়েছি।’ জনগণের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে দাবি করা বাংলাদেশে ধস নেমেছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এখন একটি বড় ধরনের ধস দেখতে পারছি। এত দিন শক্ত-সামর্থ্য একটি অর্থনীতির কথা বলা হচ্ছিল, এখন সেটি ভেঙে পড়েছে। রিজার্ভ (বৈদেশিক মুদ্রার) ধরে রাখা যাচ্ছে না।’ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছিল, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ। কিন্তু আমরা এখন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুপস্থিত থাকছেন উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, অর্থমন্ত্রী নেই, কারণ, তিনি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও মন্ত্রী নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। একটি অদৃশ্য জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ক্ষমতায় থাকলে কেউ গণতন্ত্রের চর্চা করে না। সুষ্ঠু গণতন্ত্র বাজে শাসকদের কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। বামপন্থী রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভালো মানুষ, কিন্তু মানুষের মন জয় করতে পারেন না।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘের সদস্যসচিব আফজালুল বাসার। সংঘের কার্যকরী সদস্য আলী জামান বক্তব্য দেন।