সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের পুনঃ তফসিল ঘোষণার দাবি গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির

নতুন করে তফসিল ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির প্রতিবাদ সমাবেশ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে, ৬ মে ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) এবারের নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে নতুন করে তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আজ বুধবার দুপুরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

‘সুপ্রিম কোর্ট বারসহ সারা দেশের বার সমিতির নির্বাচনে অনিয়ম–নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ’—এমন ব্যানারে ওই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) দুই দিনব্যাপী নির্বাচন আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সমাবেশে অবিলম্বে এই তফসিল বাতিল করে পুনঃ তফসিল ঘোষণা এবং স্থগিত হওয়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম এ সবুর। বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নেতা আইনজীবী মো. জাহিদুল বারী, এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, হাসান তারিক চৌধুরীসহ অনেকে।

জাহিদুল বারী অভিযোগ করেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের প্রথাকে ভঙ্গ করে একটি বিশেষ দল ও তাদের অনুগতদের নিয়ে একতরফা নির্বাচন করার পাঁয়তারা চলছে। বিগত সরকারের আমলে সৃষ্ট মব এখনো সক্রিয়। তারা সক্রিয় হলো বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। স্বৈরতান্ত্রিকভাবে অগণতান্ত্রিকভাবে অন্যদের নির্বাচন করতে না দিয়ে একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানাই।’

সমিতির এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, ‘কেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে? তাদের কি তা জানার অধিকার নেই? গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোথায় অযোগ্যতা ছিল—এ রকম কোনো কিছু জানানো হয়নি।…ঢাকা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশাল আইনজীবী সমিতিতে কোথাও বিরোধী মতের আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।’

অত্যুৎসাহী কর্মীদের নিবৃত্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জগলুল হায়দার বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তাদের অভিনন্দন জানাই। তবে আপনাদের অত্যুৎসাহী কর্মীদের একটু নিবৃত্ত করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ প্রতিটি আইনজীবী সমিতিতে যেন নির্বাচন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখেন। অগণতান্ত্রিক নির্বাচন, অধিকাংশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, বিরোধী মতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া—এগুলো বন্ধ করুন।

হাসান তারিক চৌধুরী বলেন, ‘সমিতির নির্বাচনে কোনো দলের নাম উল্লেখ থাকে না। সমিতি নির্দলীয় একটি স্বাধীন সমিতি। নির্দলীয় সমিতির ঐতিহ্যকে লঙ্ঘন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে...একটি আমি ডামির নির্বাচন করতে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

এক বছর মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য। এসব পদের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সভায় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন আইনজীবী জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ–সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ বা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যাঁরা সমর্থক ছিলেন এবং দলটির কোনো পদে দায়িত্ব পালন করেছেন—সমিতির নির্বাচনে তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে কোনো আইনজীবী চাইলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তফসিল অনুসারে গত ২৮ এপ্রিল সাড়ে পাঁচটা ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ের দিন। সেদিন মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তবে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীসহ ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে আইনজীবী সূত্রগুলো দাবি করেছে।