বিএনপির তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের তালিকায়

সুপ্রিম কোর্টফাইল ছবি: বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীর বিষয়ে পক্ষে–বিপক্ষে করা পৃথক আবেদন সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা–১০ আসনে (নাঙ্গলকোট) বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার আবেদনের (লিভ টু আপিল) ওপর আজ বুধবার আপিল বিভাগে শুনানি হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে।

একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। তাঁর করা রিটের শুনানি নিয়ে ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাঁকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। অন্যদিকে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

আজ সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ‘হাসান আহমেদ বনাম মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এবং অন্য’ শিরোনামে লিভ টু আপিলটি (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আগামীকালের কার্যতালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিল শুনানি

মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে কুমিল্লা–১০ আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে দেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ২০২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে ও শুনানি হয়।

আদালতে গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও বি এম ইলিয়াস কচি শুনানি করেন। নুরে আলম সিদ্দিকির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও এহসান এ সিদ্দিক শুনানিতে ছিলেন।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয়েছে। আগামীকাল আদেশ হবে আশা করছেন তিনি।

আজ সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ‘মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ অ্যান্ড অন্যান্য’ শিরোনামে গফুর ভূঁইয়ার করা লিভ টু আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আগামীকালের কার্যতালিকায় ৪ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

মুন্সীর লিভ টু আপিল শুনানির তালিকায়

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। শুনানি নিয়ে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি (আজ বুধবার) পর্যন্ত মুলতবি করেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এই লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ২০৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আজ সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ‘মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বনাম বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অ্যান্ড অন্য’ শিরোনামে মঞ্জুরুল আহসানের করা লিভ টু আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আগামীকালের কার্যতালিকায় ২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এর আগে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইসির ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করেছিলেন, যা সরাসরি খারিজ হয়েছে।