লালদিয়ার চুক্তি বাতিল হচ্ছে না, জানালেন নৌমন্ত্রী
দাবি উঠলেও সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় চুক্তিবদ্ধ বিদেশি কোম্পানিকেই রাখতে চায় বলেই জানিয়ে দিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি আজ সোমবার সংসদে বলেছেন, এই চুক্তি বাতিল কিংবা পুনঃ চুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ করে ৩০ বছর চালাবে ডেনমার্কের কোম্পানিটি।
চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সংগঠন এবং বাম রাজনৈতিক দলগুলো এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। এই চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তারা দাবি করছে, এর মধ্য দিয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন জানতে চেয়েছিলেন, এই চুক্তি বাতিল কিংবা পুনঃ চুক্তির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না?
জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী রবিউল আলম এই টার্মিনালে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করায় কী কী লাভ হবে, তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় এই নতুন টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল যুক্ত হওয়ায় বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং টেকনোলজি ট্রান্সফার হবে। এই টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এ প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।’
এই চুক্তির ক্ষেত্রে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেও জানান নৌমন্ত্রী রবিউল আলম।
তিনি বলেন, সরকারি সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকার ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পিপিপি (সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব) চুক্তি।
চুক্তি সইয়ের আগের পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, সবশেষে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির (এসিইএ) অনুমোদন এবং ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট সই হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে এটি ৩৩ বছরের চুক্তি। এর মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাল এবং ৩০ বছর পরিচালনাকাল। পরে আরও ১৫ বছর বাড়ানো হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য অবকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এই বন্দরটি চালু হলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বিশাল কনটেইনারবাহী মাদার ভেসেল এবং ১ লাখ ডেডওয়েট টনের মালবাহী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি ধারণক্ষমতার জাহাজ বার্থিংয়ের এই অনন্য সুযোগ দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আনবে।