‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনায় হেফাজতে ইসলাম
পয়লা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজন নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই বক্তব্যে আসন্ন পয়লা বৈশাখে ‘সর্বজনগ্রাহ্য আনন্দ শোভাযাত্রার’ পরিবর্তে ‘পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে বলে অভিযোগ করছে তারা।
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠন বলছে, ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাকে পয়লা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবেন না।’
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
গত মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমাদের কোনো অ্যালার্জি নেই যে “মঙ্গল” দিলে আমাদের ক্ষতি হবে বা “আনন্দ” দিলে আমাদের লাভ হবে। আমরা আনন্দ ও মঙ্গলের এই বিতর্ক অনর্থক মনে করি। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায়, চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ পালিত হবে।’
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে পয়লা বৈশাখে প্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে হেফাজত বলেছে, শুরু থেকেই এটির নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ দেশের ‘হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা’ পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনে পূর্বের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ‘ভুয়া দাবি’ প্রতিষ্ঠিত করে।
‘প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক দিতে হবে, সংগীত শিক্ষক নয়’
এদিকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সংগীত শিক্ষা চালুর বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর এক বক্তব্যের সমালোচনা করে পৃথক আরেকটি বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। তাঁরা বলেন, প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক দিতে হবে, সংগীত শিক্ষক নয়। ধর্মপ্রাণ অভিভাবকদের অমতে গান-বাজনায় শিশু-কিশোরদের বাধ্য করা ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংগীত শিক্ষার জন্য দেশে বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোনো অভিভাবক যদি তাঁর সন্তানকে সংগীত শিক্ষা দিতে চান, তিনি সেখানে তাঁর সন্তানকে সংগীত শেখানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। সংগীত শিক্ষা প্রতিটি শিশু-কিশোরের জন্য আবশ্যক নয়, কিন্তু ধর্ম শিক্ষা তাদের জন্য অপরিহার্য।
সংগঠনটি দ্রুত প্রাথমিকে সব ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর জন্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানায়।