সম্পূরক প্রশ্নে ফখরুল ইমাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতা কী? এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সফলতা কী, ব্যর্থতা কী, এটা যাচাই করবে জনগণ। এটা যাচাই আমার দায়িত্ব না। সততা ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করে কাজ করলে ব্যর্থ হব কেন? কোথায় সাফল্য, কোথায় ব্যর্থতা, সেটা জনগণই যাচাই করবে। মাননীয় সদস্যের যখন এতই আগ্রহ, তাহলে আমার ব্যর্থতাগুলো আপনিই খুঁজে বের করে দিন, আমি সংশোধন করে নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কখনো এত বড় দায়িত্ব নিতে হবে বলে ভাবেননি। ওই ধরনের কোনো আকাঙ্ক্ষাও ছিল না। কখনো এ ধরনের দাবিও করেননি। সময়ের প্রয়োজনে যখন যে কাজ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি করে গেছেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান বন্দী যুদ্ধাপরাধীদের ‍মুক্ত করে দেন। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সংবিধানের দুটি ধারায় পরিবর্তন এনে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। গোলাম আযমসহ অনেক যুদ্ধাপরাধীকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দেন। জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের উপদেষ্টা, মন্ত্রী বানান। তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে একই কাজ করেন। তাঁরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে চাননি।

জাপার সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিচারের আওতায় আনতে আইন করা হবে কি না। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতি করেছে, ইতিহাসই তাদের বিচার করেছে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস যারা বিকৃতি করেছে, আমি যদি ঠিক ’৯৬-এর আগে যাই, তাহলে কাকে রেখে কার বিচার করব?’

এ কে এম রহমতুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে নানান পদক্ষেপ চালিয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন ক্যাডার সৃষ্টি করলেই যে চাকরির দুয়ার খুলে যাবে, তেমন নয়। এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো ক্যাডার তৈরি করার পরিকল্পনা নেই।