গণমাধ্যম জনগণের আস্থা হারিয়েছে, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় ফিরতে হবে: কাদের গণি

পিআইবি সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘এআই, ফ্যাক্ট-চেকিং ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকেরা। ঢাকা; ২১ জুন ২০২৬ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

গত ১৭ বছরে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর যথাযথভাবে প্রকাশিত না হওয়ায় গণমাধ্যম জনগণের আস্থা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়। তাই গণমাধ্যমকে আবারও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে।

রোববার পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সদস্যদের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘এআই, ফ্যাক্ট-চেকিং ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের গণি চৌধুরী এ কথা বলেন।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য। সত্যের অনুসন্ধান থেকে বিচ্যুত হওয়ায় গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেশের খবরের জন্য জনগণকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।’

এই সাংবাদিক নেতা আরও বলেন, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও স্বার্থান্বেষী প্রচারণা এই পেশার মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একসময় যে পেশা মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক ছিল, এখন তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে। বিশেষ করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন। পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুণের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন পিআরএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন হোসেন।

কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফুল ইসলাম আরমান, জামিল খান ও আবু সুফিয়ান। বক্তারা পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতায় ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।