২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ২৪ সদস্যের। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ইউএনওকে। ওই উপজেলার সংসদ সদস্যকে রাখা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে করা হয়েছে উপদেষ্টা।

আর ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ১৪ সদস্যের। এ কমিটির প্রধান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সদস্যসচিব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে।

কমিটির কাজ কী হবে, তা-ও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। আলাদা তিনটি কমিটির সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রীতি সমাবেশ করবেন। ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার কার্যক্রম চালাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে মানুষকে সচেতন করে তুলবেন। মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটি সহযোগিতা করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সব ধর্মীয় উৎসব যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ–উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্‌যাপনের পরিবেশ ভালো রাখতে এসব কমিটি কাজ করবে। বিভিন্ন ধর্মের শান্তি ও সৌহার্দ্যের বাণী প্রচারের ব্যবস্থা করবে এসব কমিটি।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবির প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের চিঠি তিনি পেয়েছেন। এ কমিটির কার্যপরিধিতে যা উল্লেখ আছে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। তবে কমিটির সদস্যরা এখনো সভা করেননি। শিগগিরই কমিটির প্রথম সভা ডাকা হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নড়াইল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ জুলাই নড়াইলে। ফেসবুক পোস্টে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার একটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনকে এগিয়ে নিতে এসব কমিটি কাজ করবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনের মানুষ দিয়ে কমিটি করলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রশাসনের লোকদের দায়িত্ব দেওয়ায় সাম্প্রদায়িক শক্তির ‘পোয়াবারো’ হবে। কারণ, বহু জায়গায় প্রশাসনের মদদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা হচ্ছে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, জেলা প্রশাসকের বহু কাজ আছে। তাঁকে করা হয়েছে কমিটির সভাপতি। এ কাজটি নাগরিক সমাজের কাছে দিতে পারত সরকার। কিন্তু সেটি করা হয়নি। ডিসি যেহেতু এ কমিটির সভাপতি, তিনি যা বলবেন, সবাইকে তা-ই মানতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা, রাজাকারের তালিকা এসব দায়িত্ব ডিসিদের দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সে কারণে সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন