কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক পূর্বশর্ত থাকে। রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ এসব শর্ত পূরণে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, জাপানসহ উন্নত দেশগুলোর মূল বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়বে।

কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য দেশে উত্তম কৃষিচর্চা নীতিমালা (গ্যাপ) বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পূর্বাচলে খাদ্যের মান ও কতটা নিরাপদ, তা পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব ও আধুনিক প্যাকিং হাউস স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। আম রপ্তানির জন্য ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও চলছে। চীন ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ চলছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। এটা ঠিক না, বরং রপ্তানিকে বহুমুখী করতে হবে। সেটি করতে হলে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে। কৃষিপণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কৃষিপণ্য মাঠে উৎপাদন থেকে শুরু করে শিপমেন্ট পর্যন্ত নিরাপদ রাখতে কাজ চলছে।’

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষিকে এক পাশে সরিয়ে না রাখতে বা প্রান্তিকীকরণ না রাখতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে ও রপ্তানির সম্ভাবনা অপার। সেটিকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, বিনিয়োগ, সমন্বয় এবং সমন্বিত উদ্যোগ।

এ বিষয়ে মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।

দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যসংকটের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশটি চিরদিন দুর্ভিক্ষের দেশ, খাদ্যঘাটতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ২০০১-০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালেও দেশে প্রতিবছর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। মানুষ না খেয়ে থেকেছে, না খেয়ে মারাও গেছে। আর গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশ থেকে মঙ্গাকে চিরতরে দূর করেছে। এই সময়ে কোনো রকম খাদ্যসংকট হয়নি, একটি মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি।’

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচার অ্যাটাশে ফ্রান্সিস মেগান, অ্যামচেমের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ইরশাদ আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মো. কামাল বক্তব্য দেন। দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অ্যামচেমের নেতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বছরে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করে। সেখানে বাংলাদেশ রপ্তানি করে মাত্র ১৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য। শতকরা হিসাবে এক ভাগের কম।