নিরাপদ লেনদেন: সচেতনতা তৈরিতে বিকাশের কর্মশালা

সারা দেশের ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে ঢাকা, খুলনা, বগুড়া ও কুমিল্লায় চারটি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করেছে বিকাশছবি: বিকাশের সৌজন্যে

দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিদিন কোটিরও বেশি লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। কেউ প্রিয়জনকে টাকা পাঠাচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন বিল, কেউ নিচ্ছেন ব্যবসার পেমেন্ট। এ ধরনের অসংখ্য লেনদেনের ভেতরেই গড়ে উঠছে এক বিশাল ডিজিটাল অর্থনীতি। এ মাধ্যমকে যাতে কেউ হুন্ডি, বেটিং কিংবা মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার না করতে পারে সেজন্য প্রয়োজন সচেতনতা, সতর্কতা এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

এ লক্ষ্যে সারা দেশের ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে ঢাকা, খুলনা, বগুড়া ও কুমিল্লায় চারটি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করেছে বিকাশ। দিনব্যাপী পরিচালিত কর্মশালাগুলোতে ডিস্ট্রিবিউটরেরা এজেন্টদের লেনদেন সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার নিয়ম, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট করা, টাকার উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা, নন-কমপ্ল্যায়েন্ট এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারেন।

শুধু ডিস্ট্রিবিউটরদেরই নয়, দেশের প্রতিটি প্রান্তে কাজ করা ডিস্টিবিউশন চ্যানেলের রিজিওনাল সেলস অফিসার ও ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের ফিল্ড ফোর্সের ১৬ হাজারের বেশি সদস্যদেরও হুন্ডি, জুয়া, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাড়ে তিন লাখের বেশি এজেন্ট নিয়ে বিকাশের রয়েছে বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্ক, যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে। এই বিশাল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে মূল ভূমিকা রাখে ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলগুলো। তাঁদের সচেতনতায় এ কর্মশালাগুলোতে বোঝানো হয়েছে কমপ্ল্যায়েন্স মানা মানে শুধু নিয়ম মেনে চলা নয়, বরং এটি নিরাপদ ব্যবসা, বিশ্বাসযোগ্য লেনদেন, গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা।

কমপ্ল্যায়েন্সকে যেকোনো ব্যবসার মেরুদন্ড ব্যাখ্যা দিয়ে ঢাকার একজন ডিস্ট্রিবিউটর ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘আমি যে ব্যবসাটা করি সেটাতে যদি কমপ্ল্যায়েন্স না থাকে সবসময় হীনমন্যতায় ভুগব। বিকাশ এ জায়গায় যথেষ্ট পরিমাণ সচেতন, আমরাও সেভাবে বিকাশের সঙ্গে থেকে সেটা মেনটেইন করি।’

খুলনা অঞ্চলের ডিস্ট্রিবিউটর শফিকুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘এ ধরনের কর্মশালাগুলো আমাদেরকে গাইড করতে ও সচেতনতা বাড়াতে সচেষ্ট রাখে। আমরা এজেন্টদের প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ের আওতায় রাখি—তাঁরা ঠিকমতো ট্রানজেকশন করছে কিনা। কোনো ট্রানজেকশন যদি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে তা সাসপেক্টেড হিসেবে রিপোর্ট করে দিই। শুধু তা-ই নয়, তাদেরকে আমরা ছোট ছোট বিষয়েও প্রতিনিয়ত সচেতন করে থাকি।’

বিকাশের হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রিটেইল বিজনেস মোহাম্মদ ইরফানুল হক বলেন, ‘আমরা আর্থিক অন্তর্ভূক্তি নিয়ে কাজ করি। এর বড় একটি অংশ হলো, সাধারণ মানুষের যে টাকা আমাদের এই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হয়, সেখানে টাকাগুলোকে নিরাপদ রাখা। সেজন্য দেশের আইন কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেগুলেশন—বিকাশ সেটা প্রথম দিন থেকেই মেইনটেইন করে।'

ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ে সারাবছরই নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে বিকাশ। শুধু কর্মশালা নয়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বিকাশ ব্যবহার করছে আধুনিক মনিটরিং অ্যাপ ‘এএমএল ৩৬০’। যা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও রিপোর্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।