পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, লাশের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। পাঁচ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে আসছে পিবিআই। লাশের বাকি অংশ পেতেও তল্লাশি অব্যাহত আছে।

আলিনার বাবা সোহেল দাবি করেন, আসামি আবিরের মা-বাবা সব জানতেন। তাঁরা তা গোপন রেখেছেন। রিমান্ডে আবিরসহ তাঁর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পরিদর্শক মনোজ দে প্রথম আলোকে বলেন, আসামি আবিরের বাবা আজহারুল ইসলাম ও মা আলো বেগমকে তিন দিনের রিমান্ড এবং আবিরকে সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আসামি আবিরই জানিয়েছেন লাশ ছয় টুকরা করে ফেলে দেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২৫ নভেম্বর নগরের ইপিজেড এলাকা থেকে আবিরকে আটক করে পিবিআই। সেদিনই তাঁকে নিয়ে পিবিআই সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি এবং আলিনার জুতা উদ্ধার করে।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবির জানিয়েছেন, শিশু আলিনাকে অপহরণ করে ছয়-সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের সিম কাজ না করায় শিশুটির পরিবারকে ফোন দিতে পারেননি। শিশুটি চিৎকার করতে চাইলে তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি শিশুটিকে কেটে ছয় টুকরা করে কিছু অংশ সাগরে ভাসিয়ে দেন। আর কিছু অংশ পার্শ্ববর্তী আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইসগেটের পাশে ফেলে দেন। ভারতীয় টিভি সিরিজ ক্রাইম পেট্রোল ও সিআইডি দেখে আবির এ কাজ করার কথা স্বীকার করেন। পরদিন তাঁকে আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

১৫ নভেম্বর বিকেলে নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা ওয়াজ মুন্সিবাড়ি এলাকার সোহেল রানার মেয়ে আলিনা বাসার পাশে একটি মক্তবে পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করেন আবির। আলিনার বাবা স্থানীয় একটি মুদিদোকানের মালিক। আলিনাকে তাঁরা খুঁজে না পেয়ে ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৫ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মামলা করেন আলিনার বাবা সোহেল রানা।

আবিরের বাবা ভ্যানচালক আজহারুল ইসলাম আলিনাদের বাসায় ভাড়া থাকেন। তাঁর মা আলো বেগম পোশাক কারখানার শ্রমিক। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ায় তিনি ইপিজেড এলাকার আকমল আলী রোড এলাকায় অন্য বাসায় থাকেন। মা ও বাবার দুটি বাসায় যাতায়াত ছিল আবিরের।