শিশু নির্যাতন–হত্যার বিচারে দৃষ্টান্ত তৈরি না হওয়ায় অপরাধ ঘটছে

শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চাইল্ড প্রটেকশন ইনিশিয়েটিভের মানববন্ধন। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে। ঢাকা, ২৩ মে ২০২৬ছবি: সাজিদ হোসেন

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ ঘর, রাস্তা, স্কুল, মাদ্রাসা, পাড়া–মহল্লা—সব জায়গা শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনায় বিচারের কোনো দৃষ্টান্ত তৈরি না হওয়া এ ধরনের অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘আর কত শিশু মরলে রাষ্ট্র জাগবে?’ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ চাইল্ড প্রটেকশন ইনিশিয়েটিভ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও শিশু অধিকারকর্মীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, মানববন্ধনে বাংলাদেশ চাইল্ড প্রটেকশন ইনিশিয়েটিভের আহ্বায়ক আনন্দ কুটুম বলেন, ‘লাগাতার শিশু হত্যা, শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। হামে নানা বয়সের শিশুরা মারা যাচ্ছে। শিশুমৃত্যু বা শিশুর জীবন কোনো পরিসংখ্যান হতে পারে না।’

গত দুই বছরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নারী নিপীড়নকে নানাভাবে সেলিব্রেট করা হয়েছে—অভিযোগ করে আনন্দ কুটুম বলেন, ‘যেখানে নারীকে হিউমিলিয়েট (অপদস্থ) করা হয় রাজনৈতিকভাবে এবং সেই মানুষগুলো যখন ধীরে ধীরে সংসদে চলে যায়, তখন সেটা আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি চিন্তার।’

কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু বলেন, বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে আমাদের দিন দিন ভরসা উঠে যাচ্ছে। ফলে আমাদের ধর্ষকের ছিন্ন মাথার কার্টুন আঁকতে হচ্ছে।...প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে গুড টাচ ও ব্যাড টাচের (স্বস্তিকর ও অস্বস্তিকর স্পর্শ) ব্যাপারে শেখাতে হবে।

বাংলাদেশ চাইল্ড প্রটেকশন ইনিশিয়েটিভের সংগঠক হো চি মিন ইসলাম বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো স্থানীয় সালিস, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব বা অপরাধীকে রক্ষা সংস্কৃতি আমরা মেনে নেব না। আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ তিনি শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশু ও পরিবারের জন্য চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে ধর্ষণের মতো ঘটনার বিচারে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল গঠন, ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন, আইন সংশোধন এবং পাঠ্যক্রমে শরীর, নিরাপত্তা ও যৌনতা–বিষয়ক শিক্ষা (সেক্স এডুকেশন) অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।