তিন দফা দাবিতে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মশালমিছিল
তিন দফা দাবি আদায় এবং পুলিশি হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে গতকাল শুক্রবার মশালমিছিল করেছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হামলায় আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন প্রধান উপদেষ্টার দুই বিশেষ সহকারী। এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জ্বালানি উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বকশীবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে আবারও একই স্থানে ফিরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
এ সময় বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর নূর তুষার সাংবাদিকদের বলেন, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারের জারি করা কমিটির পুনর্গঠন করতে হবে, তিন দাবির বিষয়ে কমিটির আলোচনার একটি রোডম্যাপ (পথনকশা) এবং একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।
আব্দুর নূর তুষার আরও বলেন, কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রদানের আগে দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে কোনো পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে দশম গ্রেডের সার্কুলার ও নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে বলেও জানান তিনি।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গতকাল নিজেদের ক্যাম্পাসে মশালমিছিল করেছেন।
দাবি আদায়ে গত বুধবার পুলিশের হামলায় আহত বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদ নাসিফসহ সব আহত ব্যক্তির জন্য দোয়া হয়েছে। গতকাল পবিত্র জুমার নামাজের পর বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদ, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েটসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার সমবেদনা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদ নাসিফকে দেখতে যান প্রধান উপদেষ্টার দুই বিশেষ সহকারী শেখ মইনুদ্দিন এবং ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রকৌশলীদের চাকরির অসন্তোষ সমাধানে গঠিত কমিটির প্রধান জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানায়। পরে প্রতিনিধিদল বুয়েট ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাদিদের কয়েকজন সহপাঠী এবং উপস্থিত প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সংগঠকদের সঙ্গে কথা বলে।
প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপি প্রধানের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থী শাদিদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তাসহ প্রয়োজনে যেকোনো উন্নততর চিকিৎসার আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টার দুই বিশেষ সহকারী।
এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শাদিদের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এই মুহূর্তে স্থিতিশীল আছেন। তবে পাঁচ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চিকিৎসক দল পঞ্চম দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করতে হবে কি না, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, পেশাগত পরিচয়সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন।
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা; দশম গ্রেডে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা এবং শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যাঁরা সম্পন্ন করবেন, তাঁরাই যেন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
দাবি আদায়ে গত বুধবার রাজধানীর শাহবাগে অবরোধ করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা ঘিরে তাঁদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার এবং লাঠিপেটার ঘটনা ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।