বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সহযোগিতা গভীর করার অঙ্গীকার

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে করমর্দন করছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বেইজিং, চীন। ৬ মে ২০২৬ছবি: সংগৃহীত

বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বুধবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ওয়াং ই। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় তাঁর দেশ। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পারস্পরিক আস্থা জোরদার, বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।

আরও পড়ুন

ওয়াং ই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোরও একজন সদস্য। চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ফেরানো এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে সমর্থন দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওয়াং ই। তিনি বলেন, চীন তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যেতে চায়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগকে যুক্ত করা এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগের মতো খাতগুলোতেও সহযোগিতা আরও নিবিড় করা হবে। তিনি বলেন, সবুজ উন্নয়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো উদীয়মান শিল্প খাতগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। এমনকি বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বেইজিং, চীন। ৬ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ করে নয়। এমনকি এই সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হওয়াও উচিত নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চমৎকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চীন সব সময়ই বাংলাদেশের জন্য এক বিশ্বস্ত ও অপরিহার্য বন্ধু এবং অংশীদার। বাংলাদেশের নতুন সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে দৃঢ়ভাবে চীনের পাশে আছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মনে করে, ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ সরকারই সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র বৈধ সরকার এবং তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে মতবিনিময় করেন। দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনা শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।