সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীকে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘১৯৬১ সালে তিনি (রানি) যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সফর করেন, তখন তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। আমি খুব ছোট ছিলাম। আমরা বাবার অফিসে গিয়েছিলাম। কারণ, আমি জানতাম তিনি ওই রাস্তা দিয়ে যাবেন। আমাদের পুরো পরিবার বাইনোকুলার নিয়ে জানালায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যেন তাঁকে ভালোভাবে দেখতে পারি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিটি সফরেই তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমি সাতটি কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। তাই প্রতিবারই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ও কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আর অলিম্পিক গেমসের সময়ও তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং আমি এসেছিলাম। সেটি খুব ভালো একটি সুযোগ ছিল। আমরা লম্বা সময় আলোচনা করেছিলাম।’

default-image

রানি এলিজাবেথের স্মৃতিশক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল চমৎকার। এমনকি কমনওয়েলথ সম্মেলনে তিনি যখন আমাকে দেখতে পেতেন না, তখন খোঁজ নিতেন। বলতেন, “হাসিনা কোথায়? আমি তো তাঁকে দেখতে পাচ্ছি না।”’

সাক্ষাৎকারে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সাল থেকে পরের ২১ বছর পর্যন্ত কোনো না কোনো সময় আমাদের দেশে সামরিক শাসন ছিল। আনুমানিক ২০ বার সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল। প্রতিবারই রক্ত ঝরেছিল। কোনো গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। আমার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আমাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে।’

এ সময় গুমের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের কথা তোলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক মানুষই অভিযোগ তুলতে পারে। কিন্তু তা কতটুকু সত্যি, তা আপনাকে বিচার করতে হবে। এর আগে কারও কোনো মন্তব্য করা উচিত না।’

প্রয়াত রানির প্রতি শেষশ্রদ্ধা, শোক বইয়ে স্বাক্ষর

এদিকে বাসস, লন্ডন জানায়, প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ওয়েস্টমিনস্টার হলে শবাধারে সংরক্ষিত প্রয়াত রানিকে শ্রদ্ধা জানান এবং ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন