অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশে যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে। এখন নতুন যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আমলাতন্ত্রের একধরনের সেটেলমেন্ট (সমঝোতা বা অলিখিত চুক্তি) হয়েছে, যা আগে ছিল না। এখন অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে হরতাল-অবরোধ নেই। স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এটি মূলত ‘এনফোর্সড স্ট্যাবিলিটি’ (জোরপূর্বক স্থিতিশীলতা)। ফলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা উদ্বেগজনক। এই অবস্থার সমাধান খুঁজতে হবে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবীদের।

আলী রীয়াজ বলেন, এত দিন মানুষ পাঁচ বছর পর বলতে পেরেছে, ‘আপনাকে আমার পছন্দ না।’ সীমিতভাবে হলেও মানুষ মত প্রকাশ করতে পেরেছে। কিন্তু এখন যে রাজনৈতিক সেটেলমেন্ট তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশের রাজনীতিতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবেশী হিসেবে তাদের ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত হোক বা অনাকাঙ্ক্ষিত হোক, এই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহ্‌রুখ মহিউদ্দীন। বইটি নিয়ে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ এম শাহান।

অনুষ্ঠানে নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পুরোটা ভাঙেনি। বিএনপি র‍্যাব তৈরি করেছিল। আওয়ামী লীগ র‍্যাব বিলুপ্ত করেনি।

বিএনপি এখন বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করছে। কিন্তু দলটি বলেনি, ক্ষমতায় এলে রেন্টাল, কুইক রেন্টালে যাবে কি না, বাজার নিয়ন্ত্রণে কিছু করবে কি না। তিনি বলেন, মূলত ’৯১ সালেই দেশে গণতন্ত্রের ‘গর্ভপাত’ হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য একটি বড় লড়াই লাগবে। পৃথিবীর কোথাও সাধারণ মানুষ আগে নামেনি।

রাজনৈতিক শক্তিই আগে নেমেছে। প্রথম ঝুঁকিটা অংশীজনদেরই নিতে হবে। তারা নামলে মানুষ নামবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন