তথ্যচিত্রগুলোতে উঠে এসেছে জাহানারা ইমামের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ও তাঁর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমীর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রাসঙ্গিক নানা ঘটনার বর্ণনা। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফ ইমাম জামী প্রথম আলোকে জানান, এ তথ্যচিত্রগুলো তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। মূল্যবান দলিল হিসেবে এই তথ্যচিত্রগুলো আর্কাইভে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করেছেন তিনি। এগুলোর একটির নির্মাতা কাওসার চৌধুরী।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাহানারা ইমাম। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ঘোষণার পর প্রতিবাদ ওঠে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থেকে। এরপর ১৯৯২ সালের ৯ জানুয়ারি ৭ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল (অব.) কাজী নুরুজ্জামানের বাড়িতে জরুরি বৈঠক, ১৩ জানুয়ারি জননী সাহসিকা সুফিয়া কামালের বাড়িতে তাঁকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ এবং পরে জাহানারা ইমামকে আহ্বায়ক করা—এভাবেই এগিয়েছিল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও গণ-আদালতের কাজ।

তৎকালীন সরকারের বাধা উপেক্ষা করে গণ-আদালতের সঙ্গে ক্রমশ সংহতি জানাচ্ছিল সাধারণ মানুষ। তখনকার ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দৃশ্যমান করে তুলতে ২০০৭ সালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে খোলা হয় ‘শহীদজননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর’। প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সেটি খোলা হয় দর্শনার্থীদের জন্য। কনিকা, ৩৫৫ শহীদজননী জাহানারা ইমাম সরণি (পুরোনো এলিফ্যান্ট রোড) ঠিকানার সেই জাদুঘরে এখনো দেখা যাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত গণ-আদালতের ছবি, লেখা, পোস্টারসহ জাহানারা ইমামের নানা স্মৃতি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাহানারা ইমামের বড় ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমী শহীদ হন। যুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী প্রকৌশলী শরীফুল আলম ইমাম আহমেদকে নির্যাতন এবং ১৪ ডিসেম্বর হত্যা করা হয়। ছেলের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে জাহানারা ইমামের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’।