মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় ও ভাঙচুরের মামলায় শিশুটির বাবাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

গাজীপুরে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘিরে শিক্ষককে থাপ্পড়, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলার আসামি ও শিশুটির বাবাকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগাম জামিন চেয়ে করা শিশুটির বাবার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। গাজীপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়। একই দিন শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর, শিক্ষকদের মারধর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন শিশুটির বাবাসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ২৩ অক্টোবর পাল্টা মামলা করেন। এ মামলায় আগাম জামিন চেয়ে ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করেন শিশুটির বাবা।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, বেল্লাল হোসাইন ও এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান।

আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, আগাম জামিন চেয়ে শিশুটির বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাঁকে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ এ সময় তাঁকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা যাবে না।