সভায় অনুপস্থিত থাকায় ৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় না থাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ছয় প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সইয়ে পৃথক চিঠিতে ছয় প্রকৌশলীর কাছে তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ জানিয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশগুলোতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উপস্থিতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নোটিশ পাওয়া ছয় প্রকৌশলী হলেন বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান, বান্দরবান সদর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী অনুপম সিকদার, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, আলীকদম উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, লামা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী দিবাকর রায়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ‘এলজিইডির চলমান কাজের অগ্রগতি; সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম; ইউনি ব্লক/সিটি ব্লক ব্যবহার; স্লোপ প্রটেকশনে বিন্না ঘাসের ব্যবহার; এলজিইডির জেলা, আঞ্চলিক, বিভাগীয় ও সদর দপ্তরে রুফটপে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহকরণ এবং প্রশাসনিক বিষয়ক’ দিনব্যাপী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সব উপজেলা প্রকৌশলীসহ তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর নোটিশ জারি করা হয়। মোবাইল মেসেজের মাধ্যমেও তাঁদের সময়মতো উপস্থিত থাকতে বলা হয়। কিন্তু ওই ছয় প্রকৌশলী কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানোও হয়নি।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিকে ‘কর্তৃপক্ষের ন্যায়সংগত আদেশ অমান্য করে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ওই দিন সভার এক পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত কর্মকর্তাদের হাজিরার অবস্থা জানতে চান। তাঁকে জানানো হয়, সভায় উপস্থিত থাকার কথা ৫০৩ জন। উপস্থিত ছিলেন ৪৪০ জন। অন্যদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে বলে এলজিইডির সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ বা অনুপস্থিতের যৌক্তিক কারণ থেকে থাকে, তবে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

ওই সভায় প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতির কারণে নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন প্রতিমন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী বড় না স্থানীয় এমপি বড়—এটা তিনি বুঝতে পারছেন না। কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করবেন, সেটিও বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি নোট করে রাখার জন্যও তিনি বলেন। তাঁর ভাষায়, কর্মকর্তাদের এখানে ফাজলামি বা পিকনিক করতে আসার সুযোগ নেই; একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁদের ডাকা হয়েছে। অথচ অনেক প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত নেই।