হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দক্ষতার প্রশংসায় সৌদি আরব
চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দক্ষতা–সুশৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ। একই সঙ্গে তিনি আগামীতে সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
বুধবার সৌদি আরবের রিয়াদে দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রশংসা করেন তৌফিক বিন ফাউজান।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদির হজ ও ওমরাহমন্ত্রী এ বছরের হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনার সাফল্যে বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সেবা প্রদানের জন্য তিনি ধর্মমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তৌফিক বিন ফাউজান বলেন, এ বছর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও কার্যকর। হজযাত্রীদের সেবায় বাংলাদেশ যে দক্ষতা ও সমন্বয়ের পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তৌফিক বিন ফাউজান। এ সময় তিনি ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সৌদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা–পদক্ষেপের বিষয়টি ধর্মমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে উন্নত সেবাদানের মাধ্যমে সৌদি সরকার এ বছর হজ পালনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
ধর্মমন্ত্রী সৌদির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাউজানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমানদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময় সৌদি আরবের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনা ও ধর্মীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করেন ধর্মমন্ত্রী।
বৈঠকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলামসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।