ওই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর আবারও নিখোঁজ হলেন মেহেদী হাসান। নিখোঁজের পর গত ৮ নভেম্বর ফুলবাড়িয়া থানায় একটি জিডি করেছে তাঁর পরিবার। মোনতাহেনা পিংকি বলনে, গত ২৬ জানুয়ারি র‍্যাবের কয়েকজন সদস্য তাঁদের বাড়িতে এসে একটি নিখোঁজ আবেদন করতে পরামর্শ দেন। তখন বাংলায় একটি আবেদনপত্রও লিখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরদিন র‍্যাব সদস্যরা নিজেরাই ইংরেজিতে লেখা আরেকটি আবেদন নিয়ে এসে স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন মেহেদীর বাবাকে। কিন্তু ইংরেজি লেখা পুরোপুরি না বোঝায় তাঁরা স্বাক্ষর করেননি।

নিখোঁজের দুই দিন পরই মেহেদীর মুঠোফোন একবার চালু করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে মোনতাহেনা পিংকি বলেন, ‘আমার স্বামীর অবস্থান দেখিয়েছে উত্তরা র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি। যার কারণে আমার মনে হয়েছে, হয়তো ওনাদের এর পেছনে কোনো ইয়ে (সংশ্লিষ্টতা) থাকতে পারে। কেউ স্বীকার না করলে আমি তো নিশ্চিত হয়ে বলতে পারব না।’

স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মোনতাহেনা পিংকি। তিনি বলেন, ‘যদি আমার স্বামী কোনো অন্যায় করে থাকেন, তাহলে তাঁকে আইনের আওতায় দিয়ে দেওয়া হোক। এভাবে গুম করে রেখে শুধু ওনাকেই শাস্তি দিচ্ছেন না, আমাকে, আমার দুই সন্তানকে, পিতা–মাতাকেও শাস্তি দিচ্ছেন। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মরে গেছেন, আমরা তা–ও জানি না।’

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, মেহেদী হাসানের হদিস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জানা আছে। যদি না থাকে, তাহলে তাদের পক্ষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বের করা সম্ভব। একটি জিডি যথেষ্ট ছিল মেহেদীকে খুঁজে বের করার জন্য। দেশীয় কোনো সংস্থার লোকজন সরকারের অজান্তে এ কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র দায়িত্বের পরিচয় দেয়নি।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘দেশে সব কটি গুমের ঘটনার প্যাটার্ন (ধরন) একই রকম। মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর সুবিধামতো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ইমাম মেহেদী হাসানকে তুলে নেওয়া হয়েছে একই কায়দায়। এর আগেও র‍্যাব তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন মামলায় আমরা দেখি আটকের সঙ্গে জিহাদি বই পাওয়া যায়, কোথাও মাদক পাওয়া যায়, কোথাও ভাঙা পিস্তল পাওয়া যায়। পরিবার তাঁকে ট্র্যাক করেছে উত্তরায়। র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের আশপাশে। আগের ঘটনায় একই জিনিস দেখেছি। কোনো একটা সংস্থার আশপাশে এমন অনেক ঘটনা দেখেছি।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির মহাসচিব আরও বলেন, কিছুদিন আগেও পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাঁদের সাজানো বক্তব্যে স্বাক্ষর গ্রহণের জন্য গুম হওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়েছেন। এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। সরকারি দলিলে বাংলা লেখার কথা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কী উদ্দেশ্যে, কী কারণে, ইংরেজিতে লিখে মেহেদীর বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণের চেষ্টা করা হয়েছে? এটা কোনো দূরভিসন্ধিমূলক কাজ।

ইংরেজিতে লেখা হওয়ায় এটা ধারণা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, কোনো আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্য সাজানো বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন