ঢাকা দক্ষিণ সিটি
আগ্রহ আছে, পরিবেশ নেই
বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারের তুলনায় ভাড়া কম। তাই অনুষ্ঠান করতে মানুষের আগ্রহ আছে। কিন্তু পরিবেশ না থাকায় আগ্রহে ভাটা পড়ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কমিউনিটি সেন্টার আছে ৩৬টি। এর মধ্যে ১৭টিই নাগরিকেরা ব্যবহার করতে পারছেন না। চালু ১৯টি কমিউনিটি সেন্টারের কোনোটিতেই নেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। আছে আরও নানা সমস্যা। খোদ সিটি করপোরেশনই বলছে, চালু থাকা সেন্টারের মধ্যে ১৩টিরই সংস্কার জরুরি।
বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য এসব কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারের সুযোগ পান নাগরিকেরা। তুলনামূলকভাবে বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারের তুলনায় এগুলোর ভাড়া কম। এ কারণে অনেকেই এসব কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারে আগ্রহী। কিন্তু বেশির ভাগ সেন্টারের শৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর অবস্থাসহ আরও নানা সমস্যার কারণে মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়ছে। অবশ্য করোনা পরিস্থিতিতে এখন কমিউনিটি সেন্টারগুলো বন্ধ।
সম্প্রতি পল্টন কমিউনিটি সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, তিনতলায় অবস্থিত সেন্টারটি অনেকটা জরাজীর্ণ অবস্থায়। ফ্যানগুলো অনেক পুরোনো। শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হানুল ইসলাম বলেন, তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ার কারণে লোকজন কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহার করতে চান। কিন্তু পরিবেশ না থাকায় এখানে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন না।
পল্টন কমিউনিটি সেন্টারটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এনামুল হক (আবুল) প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে। এ শঙ্কায় অনেকে এটি ব্যবহার করেন না। তিনি বলেন, আধুনিকায়ন করা গেলে সব শ্রেণির মানুষ এটি ব্যবহারের আগ্রহ দেখাবে।
১৩টির সংস্কার জরুরি:
নাগরিকেরা যে ১৯টি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহার করতে পারছেন, এর মধ্যে ১৩টিরই সংস্কারকাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। ডিএসসিসির সমাজকল্যাণ বিভাগের তৈরি প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা আছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধানমন্ডি কমিউনিটি সেন্টার, পল্টন কমিউনিটি সেন্টার, কাজী বশির মিলনায়তন, যাত্রাবাড়ী কমিউনিটি সেন্টার, ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার, ফকির চান কমিউনিটি সেন্টার ও মঈনুদ্দিন চৌধুরী মেমোরিয়াল কমিউনিটি সেন্টারসহ ১৩টি কমিউনিটি সেন্টার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ঠিক করাসহ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
দক্ষিণ সিটির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফ হোসেন (ছোটন) প্রথম আলোকে বলেন, মঈনুদ্দিন চৌধুরী মেমোরিয়াল কমিউনিটি সেন্টারটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। মানুষজন এটা ব্যবহার করেন না। অবশ্য সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ইতিমধ্যে কয়েকটির আংশিক এবং কয়েকটির পুরোপুরি সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। সব কটি কমিউনিটি সেন্টারের কাজ শেষ হলে এসব ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, যেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ও সংস্কার জরুরি, সেগুলো ঠিক করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কিছু কমিউনিটি সেন্টার ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।
ব্যবহৃত হচ্ছে না ৯টি:
নানা কারণে ডিএসসিসির ৯টি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহৃত হচ্ছে না। এর মধ্যে একটি সেগুনবাগিচা কমিউনিটি সেন্টার। প্রায় এক দশক আগে নির্মিত কমিউনিটি সেন্টারটি এখনো চালুর অপেক্ষায়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের চার ও পাঁচতলায় অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টারের জন্য বরাদ্দ জায়গায় লোকজন বসবাস করছেন। লিফটগুলো বিকল।
ডিএসসিসি জানায়, ধানমন্ডি কমিউনিটি সেন্টার, পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল মিলনায়তন ও মৌলভীবাজার কমিউনিটি সেন্টার জরাজীর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী। আর নির্মাণাধীন থাকায় ইসলামবাগ কমিউনিটি সেন্টার ও খলিল সরদার কমিউনিটি সেন্টারসহ চারটি ব্যবহৃত হচ্ছে না। এ ছাড়া গ্যাস–সংযোগ না থাকাসহ নানা কারণে ব্যবহৃত হচ্ছে না আরও দুটি কমিউনিটি সেন্টার।
কমিউনিটি সেন্টার ছাড়তে তাগাদা:
ডিএসসিসির কমিউনিটি সেন্টারগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঁচটি ও সিটি করপোরেশন তিনটি ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা পাঁচটি কমিউনিটি সেন্টার ছেড়ে দিতে গত বছরে তিন দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সর্বশেষ চলতি মাসে তাদের চিঠি দিয়ে এসব ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, তাগাদাপত্র দিয়েও যদি কাজ না হয়, তাহলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এগুলো বুঝে নেওয়া হবে। এ ছাড়া ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, যে তিনটি কমিউনিটি সেন্টার সিটি করপোরেশন অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে, সেগুলো ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।