ঢাকা উত্তর সিটি
আছে ১৪টি, ব্যবহার করা যায় ৮টি কমিউনিটি সেন্টার
তিনটি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহার করছে র্যাব। দুটি সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য বন্ধ। নির্মাণকাজ শেষ হলেও একটি চালু হয়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে কমিউনিটি সেন্টার আছে ১৪টি। তবে নগরবাসীর অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ আছে মাত্র ৮টিতে। এর মধ্যে ৪টিই লোকসান গুনছে।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, সংস্থার তিনটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়ায় ব্যবহার করছে র্যাব। দুটি সেন্টার সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ২০১৯ সালের শেষে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের (মধুবাগ) কমিউনিটি সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেটি এখনো চালু করা হয়নি। করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গত বছরের এপ্রিল থেকে চালু থাকা সেন্টারগুলোতে অনুষ্ঠানের বুকিং নেওয়া বন্ধ আছে।
সংস্কারের অজুহাতে দুটি বন্ধ:
সংস্কার আর উন্নয়নকাজের অজুহাতে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (বনানী) ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের (রায়েরবাজার) কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ শাখার কর্মকর্তারা জানান, বনানী কমিউনিটি সেন্টার এক দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ হওয়ার পর বনানী কমিউনিটি সেন্টারে উত্তর সিটির কার্যালয় করা হয়। তখন মিলনায়তন কেন্দ্রে দেয়াল তুলে কর্মকর্তাদের অস্থায়ী কার্যালয় করা হয়। ২০১৬ সালে গুলশান-২ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হলেও বনানীর সেন্টারটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা হয়নি।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, সেন্টারটি সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ আছে। তবে সেখানে দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ দেখা যায়নি।
ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমান বলেন, দরপত্র চূড়ান্ত হয়ে গেছে। শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। কক্ষগুলো ভাঙা হবে, শৌচাগারের কাজ করা হবে।অন্যদিকে রায়েরবাজার কমিউনিটি সেন্টার কবে থেকে বন্ধ আছে, সে সম্পর্কে জানা যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, কমিউনিটি সেন্টারের মূল ভবন (উত্তর পাশে) বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত অংশে ওপরে ওঠার সিঁড়ি এবং নিচতলায় রান্নাঘর তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া এসি যন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে।
সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, এসি লাগানোর কারণে নতুন করে বিদ্যুতের সংযোগ নিতে হবে। গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। এসব কারণে সেন্টারটি চালু করা যাচ্ছে না।
ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকায় কাজও ধীরগতিতে চলছে। দ্রুত কমিউনিটি সেন্টারটি চালুর চেষ্টা চলছে।
লোকসানে চারটি সেন্টার:
চালু থাকা আটটি কমিউনিটি সেন্টারের চারটিতে আর্থিক লোকসান হয়েছে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোর গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবে এমন তথ্য উঠে এসেছে। লোকসান হওয়া কমিউনিটি সেন্টারগুলো মিরপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ড, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, ৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এর মধ্যে প্রথম তিনটি সেন্টার পরের অর্থবছরেও (২০১৯-২০) লোকসান গুনেছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে লাভ করেছে ১ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তরা), মিরপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, মহাখালীর ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ফার্মগেটের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড (আবদুল হালিম) কমিউনিটি সেন্টার। এই ৪ সেন্টার থেকে আয় হয়েছে মোট ৭৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৩ টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ টাকা। খরচ বাদে করপোরেশনের লাভ হয়েছে ৪১ লাখ ৪ হাজার ২৬৯ টাকা। উত্তরা এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে সবচেয়ে বেশি ৩১ লাখ ৫২ হাজার ২৭৮ টাকা আয় হয়েছে। এই কমিউনিটি সেন্টারে আয়ের এক-পঞ্চমাংশ ব্যয় হয়েছে।
র্যাবের কাছে ভাড়া তিনটি:
র্যাব ঢাকা উত্তর সিটির তিনটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়ায় ব্যবহার করছে। এগুলো হলো ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও তালতলা কমিউনিটি সেন্টার, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর কমিউনিটি সেন্টার এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার। ডিএনসিসির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কমিউনিটি সেন্টারের বিকল্প জায়গার জন্য তাঁরা গণপূর্তের কাছে জায়গা চেয়েছিলেন। তখন বলা হয়, র্যাব শিগগিরই সেন্টার ছেড়ে দেবে।
৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, বছিলায় র্যাব-২-এর কার্যালয় হয়েছে। সেখানেই তাদের চলে যাওয়ার কথা।
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘র্যাবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিকল্প জায়গা পেলে তারা আমাদের কমিউনিটি সেন্টার ছেড়ে দেবে।’ বন্ধ থাকা অন্য কমিউনিটি সেন্টারগুলো দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বনানী কমিউনিটি সেন্টারটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।