বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় নিজের মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, মাত্র সাত বছর বয়সে তাঁর মা মারা যান। তাই মাকে নিয়ে তেমন কোনো স্মৃতি নেই। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার দুই বছর পর যখন বাবা মারা যান, তখন মনে হয়েছিল মাথার ওপর থেকে ছাদ চলে গেছে। তাই মা দিবসে মায়েদের পাশাপাশি বাবাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকায় উন্নয়নের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধে ধস নেমেছে। পাশের বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশ গিয়ে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার লাশ বের করছে। আমরা তেমন উন্নয়ন চাই না। শুধু বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ গঠন সম্ভব নয়।’

তথ্যমন্ত্রী মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ মা ও নারীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া মায়েদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করেছেন বলেই আপনাদের সন্তানেরা দেশকে আলোকিত করেছেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিকিৎসক আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, এবার নবমবারের মতো মায়েদের সম্মাননা জানানো হচ্ছে। সব ছেলেমেয়ে বা নির্দিষ্ট করে না বলে, যেকোনো একজন সন্তানও যদি সমাজে বিশেষ অবদান রাখেন, তবে ওই সন্তানের মাকেও সম্মাননা জানানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাত ভাইবোনকে মা সামলেছেন। নিজে মা হলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমাদের এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে মায়ের কতটুকু ভূমিকা ছিল।’ মাকে কেউ যাতে অসম্মানিত না করেন, সে আহ্বান জানান তিনি। প্রীতি চক্রবর্ত্তী বৃদ্ধাশ্রমকে আধুনিক সমাজের চাহিদা হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সম্মাননাপ্রাপ্ত মায়ের সন্তানেরা যেন পিছিয়ে পড়া বা সমস্যার মধ্যে থাকা অন্য মায়েদের সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন, সে আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে যে মায়েরা তাঁদের সন্তানকে দেশের পতাকা রক্ষায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছিলেন, ওই মায়েদের কেউ যাতে ভুলে না যান, তিনি সে আহ্বানও জানান।

যে মায়েরা সম্মাননা পেলেন

সিএমএম কোর্ট, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর মা নাদেরা বেগম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের মা সাজেদা খাতুন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ ফারুকের মা তাসকিনা ফারুক, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের মা জ্যোৎস্না রানী ধর, প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছির মা লুৎফা বেগম, অভিনেতা ও নির্মাতা মীর সাব্বিরের মা আখতারা খানম, অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষের মা ঝর্ণা ঘোষ, গায়ক ও প্রযোজক শায়ান চৌধুরী অর্ণবের মা সুরাইয়া চৌধুরী, অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সিইও আয়মান সাদিকের মা শারমিন আক্তার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী শোভা রানী লোদের মা প্রতিমা রানী দাশ।

default-image

অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া মায়ের সন্তানেরা মাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। ভালোবাসি কথাটা অন্য সময় সেভাবে ঘটা করে মাকে বলা না হলেও অনুষ্ঠানে কেউ কেউ মনের সেই কথাটিও প্রকাশ করেন। সন্তান মাকে নিয়ে যখন কথা বলছিলেন, তখন অনেক মায়ের চোখে পানি ছিল। কান্না নয়, সন্তানের সাফল্যে তা ছিল আনন্দাশ্রু।

সম্মাননা পাওয়া মায়েদের সন্তানেরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি বলেন, ‘মায়েদের সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠানটি যখন চলছে, তখন হয়তো দেশের বিভিন্ন জায়গায় মায়েরা অসম্মানিত হচ্ছেন। মা দিবসের এই অনুষ্ঠান থেকে সবাইকে যে বার্তা দিতে হবে তা হচ্ছে, মা ও নারীদের সম্মান করতে হবে।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি আমার মায়ের বিষয়ে কখনো কম্প্রোমাইজ করিনি। সন্তানদেরও বলি, তারা যেন তাদের মায়ের বিষয়ে কম্প্রোমাইজ না করে।’

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘মা সন্তানদের পৃথিবীতে এনেছেন, তার জন্যই তো সন্তানদের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।’

অভিনেতা মীর সাব্বির বলেন, ‘মা যত দিন থাকবেন, তত দিন সন্তানের পথচলা থামবে না।’ প্রথম শুটিংয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাকে সালাম করতে গেলে মা জানিয়েছিলেন, তিনি আমার জন্য রোজা রেখেছেন। তখন মনে হয়েছিল, যে মা সন্তানের কাজের জন্য রোজা রাখতে পারেন, সেই সন্তান জীবনে কিছু হলেও হতে পারে।’

অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ বলেন, ‘আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তার মূল খুঁটি ছিলেন আমার মা। মা তোমাকে কখনো বলা হয়নি, আজ বলতে চাই, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

জন্মের আগেই বাবা মারা যান শোভা রানী লোদের। তিনি বলেন, ‘আমি বাবাকে পাইনি। আমার কাছে বাবা ও মা দুজনই হলেন আমার মা। আমার অমূল্য সম্পদ হলেন আমার মা। আমার জন্মের আগে মেয়ে না ছেলেসন্তান হবে, মা তা জানলেও গোপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য চারপাশ থেকে অবহেলা পেয়েছি। তাই ঠিক করেছিলাম, আমি যদি বদলাই বদলে যাবে একটি পরিবার। আমি যা করি তা–ই মা সঠিক মনে করেন।’

শোভা রানী লোদ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চে বসে তাঁর মা প্রতিমা রানী দাশ অঝোরে কাঁদছিলেন। মঞ্চের অন্য মা ও মিলনায়তনে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও সে কান্না ছুঁয়ে যায়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন