বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় দুই মাস অচল ছিল বুয়েট। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশিকুলসহ ২৬ জনকে আজীবন বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় আশিকুলকে আসামি করেনি পুলিশ।
বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আশিকুলের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুয়েট কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেন। আশিকুল ওই স্থগিতাদেশ নিয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ গত ৪ এপ্রিল তাঁকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেয়।

এরপর আশিকুল ইসলাম কেমিকৌশল বিভাগের লেভেল-৩ টার্ম-১–এর অন্তত চারটি কোর্সে নিবন্ধন করেন। ২২ মে তিনি বিভাগের একটি কোর্সের অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ক্লাসের সব শিক্ষার্থী তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক জুম ও টিমস অ্যাকাউন্টে ‘খুনির সঙ্গে ক্লাসে অংশগ্রহণ নয়’ লেখা প্রোফাইল ছবি দেন। এই প্রতিবাদের মুখে আশিকুল ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান।

২৪ মে সভা করে শিক্ষার্থীরা বুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আশিকুল ইসলামের কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড বা র‍্যাগিংয়ে সম্পৃক্ততার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যাতে আর একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সব ব্যাচ সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের কাছে ২৯ মের মধ্যে দাবিগুলো কার্যকর করার সময় বেঁধে দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে ৩০ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

জানতে চাইলে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা থাকায় আশিকুল ইসলামকে ক্লাসে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আশিকুলের বহিষ্কারাদেশের ওপর আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুয়েটের পক্ষ থেকেও আইনিভাবে লড়াই করা হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন