নিরাপদ সড়কের ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আজও রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের এইডস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, দেশে এইচআইভি/এইডস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। দেশ এমনিতেই করোনাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জর্জরিত।

default-image

এবারের বিশ্ব এইড দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সমতার বাংলাদেশ, এইডস ও অতিমারি হবে শেষ।’ আজ আলোচনা সভা শুরুর আগে বিসিপিএসের সামনে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, এইচআইভি ভাইরাসও প্রাণী থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। রোগবালাই কোনো বাউন্ডারি মানে না। ভাইরাসের গতিও বেড়েছে। তাই প্রাণীদের পরিবেশ ধ্বংস করলে চলবে না। ওদের জায়গায় ওদের থাকতে দিতে হবে। আর একই সঙ্গে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিকতা, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে। মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।

করোনার নতুন ধরন অমিক্রন ডেলটার থেকেও ক্ষমতাবান বলে শোনা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মিলনায়তনের বাইরে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আফ্রিকা থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগেই করোনা পরীক্ষা এবং দেশে ফেরার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন মেনে চলতে হবে। অমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে, এমন কোনো দেশ থেকে কেউ এলে আপাতত করোনা পরীক্ষা করলেই হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
‘আমরা কাউকে জেলে পাঠাচ্ছি না’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যাতে শনাক্তকরণের বাইরে না থাকে, তাই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া এইডস মোকাবিলায় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘এখন আর ভালো ছাত্র চাই না। সুশিক্ষিতরাও মাদকাসক্ত হচ্ছে। তাই এখন বলি, আমাদের ভালো মানুষ দরকার। অভিভাবকত্বের জায়গায় যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, এইডসের সঠিক চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এটি প্রতিরোধ ও দমন করা যায়। তিনিও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন। করোনা মোকাবিলায় ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস’ স্লোগানকে সামনে রেখে অগ্রসর হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের এইডস পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও টিবি-লেপ্রোসি ও এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর চিকিৎসক মো. খুরশীদ আলম। তিনি জানান, দেশে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। দেশে সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে নতুন করে এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৭২৯ জন। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ১৮৮ জন (২৬ শতাংশ)। গত ১ বছরে ২০৫ এইডস রোগী মারা গেছেন। আর এক বছরে এইচআইভি পরীক্ষা হয়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৩১২ জনের। ব্লাড স্ক্রিনিং করা হয়েছে আরও ৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৭ জনের। এক বছরে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ জনগোষ্ঠী ২৬ শতাংশ, রোহিঙ্গা ২৬ শতাংশ, বিদেশফেরত প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য ২০ শতাংশ, ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় মাদক গ্রহণকারী ৮ শতাংশ, নারী যৌনকর্মী ২ শতাংশ, পুরুষ যৌনকর্মী ৭ শতাংশ এবং ট্রান্সজেন্ডার ২ শতাংশ। গত ১ বছরে আক্রান্ত ৭২৯ জনের মধ্যে চিকিৎসাসেবার (অ্যান্টি–রেট্রোভাইরাল থেরাপি) আওতায় এসেছেন ৬৪২ জন। ১ বছরে দেশে ২১ জন অন্তঃসত্ত্বা মা এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। মা থেকে শিশুতে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রমের আওতায় সেবা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩ জন মা সন্তান জন্ম দিয়েছেন, যাঁদের ৪৩ জনই এইচআইভি নেগেটিভ। অন্যদের পরীক্ষা চলছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চিকিৎসক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএসএআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন