বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবুল হাসনাত ২০০৪ সাল থেকে কালি ও কলম সম্পাদনা করছিলেন। এর আগে তিনি দুই যুগের বেশি সময় দৈনিক সংবাদ–এর ‘সাহিত্য সাময়িকী’ সম্পাদনা করেন। কবিতা লিখতেন মাহমুদ আল জামান নামে। কবিতা, শিল্প সমালোচনা, গল্প মিলিয়ে তাঁর মৌলিক এবং সম্পাদিত গ্রন্থ অর্ধশতাধিক। গত বছর ১ নভেম্বর তিনি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরবিদায় নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আবুল হাসনাতের দুটি প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ ও ‘শুধু তোমার বাণী নয় হে বন্ধু’ গেয়ে শোনান শিল্পী অদিতি মহসীন। এরপর তাঁর জীবনী নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেন হাসান আরিফ। তাঁকে নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ‘আবুল হাসনাত স্মরণ–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা আবুল হাসনাতের সাহিত্য সম্পাদনা, লেখালেখি, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, এমনকি প্রথম বিভাগে তাঁর ক্রিকেট খেলা এবং রাশিয়ায় গেরিলাযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মতো অনেক অজানা বিষয় তুলে ধরেন।

ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, এই ধরনের প্রচারবিমুখ, নেপথ্যচারী মানুষদের নিয়ে বড় বিপদ হলো জীবিতকালে তাঁদের সম্পর্কে জানা যায় না। মৃত্যুর পরে কাজের ভেতর দিয়ে তাঁদের আবিষ্কার করতে হয়।
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, আবুল হাসনাত সাংস্কৃতিক রুচিকে উন্নত করার চেষ্টায় আত্মনিবেদিত থেকেছেন। দৈনিক সংবাদ–এর সাহিত্য পাতা তাঁর সম্পাদনায় যেমন সেরা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, একইভাবে কালি ও কলমকে তিনি শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় পরিণত করেছিলেন।

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আবুল হাসনাত নতুন লেখক সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের চিন্তার সূত্র ধরিয়ে দিয়েছেন। বই, তথ্য—যার যেমন প্রয়োজন; কারও সঙ্গে যোগাযোগের দরকার হলে অনুরোধ করে চিঠি দেওয়াসহ সব রকমের সহায়তা করেছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সংস্কৃতি এক দিনে গড়ে ওঠে না। এ জন্য অনেক মানুষ নেপথ্যে থেকে অনেক দিন ধরে কাজ করে চলেন। আবুল হাসনাত ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।

default-image

কালি ও কলম–এর প্রকাশক হিসেবে আবুল খায়ের বলেন, ২০০৪ সাল থেকে আবুল হাসনাত কালি ও কলম সম্পাদনা করছিলেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন। তাঁদের চলে যাওয়া সারা দেশের জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।

বন্ধু আবুল হাসনাতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্মৃতি তুলে ধরে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘নানামুখী কাজ ও সম্পাদনায় বিপুল সাফল্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন কবি। কবিতার ভেতর দিয়েই আমরা তাঁর নিজের কথা জানতে পারি।’ আবুল হাসনাতের ‘নষ্ট হয়ে যাচ্ছি’ নামের একটি কবিতা পড়ে প্রথম আলো সম্পাদক বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শিল্পী শহীদ কবির ২০১৮ সালে আবুল হাসনাতের একটি প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন। এটি স্মারকগ্রন্থের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি নিজেকে আবুল হাসনাতের ভক্ত হিসেবে উল্লেখ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আরও বক্তব্য দেন কবি তারিক সুজাত।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখন একটা অস্বাভাবিক সময়ের মধ্যে আছি। সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকার চেপে বসেছে। শিশু–কিশোরদের মনোজগতের সুকুমার বৃত্তির বিকাশের জন্য যে সংগঠনগুলো কাজ করত, তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের জন্য যে সংস্কৃতির চর্চা প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। এখন একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ অত্যন্ত প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘আবুল হাসনাত এই সংস্কৃতির জন্যই সারা জীবন কাজ করে গেছেন। তিনি নেই। এখন আমাদের দায়িত্ব নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাসিমুন আরা হক বলেন, ‘আবুল হাসনাত সারা জীবন অন্যের জন্যই কাজ করে গেছেন। নিজের জন্য কিছু চাননি। এমনকি মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে আমরা গার্ড অব অনারটুকুও দিতে পারিনি। এই আক্ষেপ থাকবে।’ অবশ্য আবুল হাসনাতের স্মরণে এই আয়োজনের জন্য নাসিমুন আরা সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন