default-image

হেফাজতের ডাকা হরতালে গতকাল রোববার সারা দিন রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উত্তরা, টঙ্গী, বোর্ডবাজার ও গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা পর্যন্ত সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল। কোথাও সড়ক দখল করে বিশাল মিছিল, কোথাও মোটরসাইকেল মহড়া, কোথাও অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন নেতা-কর্মীরা। এসব সমাবেশ থেকে হরতালবিরোধী স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়া হয়। এই এলাকায় গতকাল হরতালের সমর্থনে হেফাজতের কোনো তৎপরতা ছিল না।

হরতাল প্রতিহত করতে সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান করতে থাকেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সরকার-সমর্থিত দলের লোকজন। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন উত্তরার রাজউক কমার্শিয়াল মার্কেটের সামনে হরতালবিরোধী সমাবেশ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসান ও তাঁর সহযোগী নেতা-কর্মীরা। এ সময় সমাবেশ থেকে হরতালবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। একই সময় গাজীপুরের টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় সড়ক দখল করে মিছিল করছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের নেতা মো. বিল্লাল হোসেন মোল্লাহ। টঙ্গী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল মহড়া দেন নেতা-কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসান বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম সারা দেশে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারই প্রতিবাদে আমরা সমাবেশ করেছি। আমরা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা চাই।’ আর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কেউ যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা কারও জানমালের যাতে ক্ষতি করতে না পেরে, সে জন্য আমাদের লোকজন দিনভর সড়কে অবস্থান করেছে।’

এদিকে হরতাল পালন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুর, এয়ারপোর্টসহ গাজীপুরের বিভিন্ন অংশে অবস্থানের কথা ছিল হেফাজতে ইসলামের। হেফাজতের বৃহত্তর উত্তরা জোনের প্রচার সম্পাদক জহির ইবনে মুসলীম বলেন, ‘সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে যে মারমুখী অবস্থানে ছিল, তাতে আমাদের মাঠে নামার কোনো উপায় ছিল না। কারণ, আমরা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করতে চেয়েছিলাম। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন