default-image

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাংসদ হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে আবার রিমান্ডে চায় পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দফায় ইরফান সেলিমের তিন দিনের রিমান্ড আজ রোববার শেষ হচ্ছে। তাঁকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানাবেন তাঁরা।

রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় হওয়া এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে আছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গত বুধবার এই মামলায় ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষী মো. জাহিদুল মোল্লার তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন।

তার আগে গত সোমবার সকালে ধানমন্ডি থানায় ইরফান সেলিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান।

ওয়াসিফ আহমেদ খান অভিযোগ করেন, আগের দিন রোববার রাতে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত একটি গাড়ি। ওয়াসিফ নিজের পরিচয় দিলেও গাড়ি থেকে নেমে একজন গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর গাড়িটি কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড সিগন্যালে দাঁড়ালে ওয়াসিফ মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে গিয়ে গাড়ির জানালায় টোকা দিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং কথা বলতে চান। গাড়ির ভেতরে থাকা লোকজন কোনো কথা না বলে তাঁকে উপর্যুপরি মারধর করেন। তিনি জানতে পারেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলাকারী সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। এর বাইরেও এজাহারে তিনি আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা হলেন মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দীপু, জাহিদ ও মিজানুর রহমান। মামলার চার আসামিই গ্রেপ্তার আছেন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফকে মারধরের জেরে গত সোমবার পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা সরকারদলীয় সাংসদ হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফানকে এক বছর কারাদণ্ড ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার কারণে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুলকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাস সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ইরফান ও জাহিদুলের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে র‍্যাব। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাগুলো হয়।

ইরফানকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, সাংসদ হাজি সেলিম ও তাঁর ছেলে ইরফান সেলিমের সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা তথ্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের অর্জিত ও দখলি সম্পদগুলো যদি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধে গণ্য হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0